সর্বশেষ :

আদিতমারী কালীগঞ্জে ঝিমিয়ে পড়েছে  আ’লীগ

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাট ০২:১৪, ২৯ নভেম্বর ২০১৯

অন্তদ্বন্দ্ব ও দায়িত্ব প্রাপ্তদের তদারকির অভাবে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সকল সহযোগি সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড।
আগামী ৯ ডিসেম্বর জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগি সংগঠনগুলো  সরব হয়ে উঠলেও ঝিমিয়ে পড়েছে কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা। হাতীবান্ধা উপজেলায় দুইটি গ্রুপকে পাল্টাপাল্টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড সম্মেলন করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৩টি সংসদীয় আসনের ২টি আওয়ামীলীগ ও একটি জাতীয় পার্টির দখলে। যার মধ্যে লালমনিরহাট ১ (হাতীবান্ধা পাটগ্রাম) আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি ও লালমনিরহাট ২ (আদিতমারী কালীগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন সমাজ কল্যান মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। লালমনিরহাট ৩ (সদর) আসনে সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা লালমনিরহাট ১ আসনের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ করছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি এবং সদর ও লালমনিরহাট পৌসভার ওয়ার্ড ইউনিয়নে কমিটি গঠনের কাজ করছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। সম্মেলনের আমেজ নেই লালমনিরহাট ২ আসনের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায়।
৩টি আসনের সব থেকে গুরুত্বপুর্ন লালমনিরহাট ২ আসনে টানা ৭বার সংসদ সদস্য ছিলেন প্রায়ত জাতীয় পার্টির মজিবর রহমান এমপি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুজ্জামান আহমেদ। একাদশ জাতীয় সংসদেও তিনিই নির্বাচিত হয়ে সমাজ কল্যান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দিনের জাপার এ ঘাঁটি আওয়ামীলীগের দখলেও এলেও ধরে রাখার তৎপরতা নেই বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি।
আগামী ৯ডিসেম্বর জেলা সম্মেলনকে ঘিরে  লালমনিরহাট ২ আসনের দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নেই কোন উৎসবের আমেজ। বাকী দুইটি আসনের সকল ইউনিটের নতুন কমিটি গঠন প্রায় শেষের দিকে হলেও এ আসনে পুরাতন মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটিই একমাত্র ভরসা। নতুন করে কমিটি গঠন বা বর্ধিত সভার কোন আয়োজন নেই সরকারী এ দলটির। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোপনে এ আসনের মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছে বিএনপি। ফলে হতাশ আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
লালমনিরহাট ২ আসনের আদিতমারী উপজেলায় আওয়ামীলীগের দুইটি গ্রুপ প্রকাশ্য দুই ভাগে বিভক্ত রয়েছে। একটি সভাপতি শওকত আলী গ্রুপে নেত্বত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সিরাজুল হক ও অপরটি সাধারন সম্পাদক রফিকুল আলম গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সমাজ কল্যান মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি। এ   দ্বন্দ্বের কারনে আওয়ামীলীগের দলীয় সকল কার্যক্রম পৃথক পৃথক ভাবে পালন করা হয়।
এ উপজেলার সকল সহযোগি সংগঠন চলছে মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটি দিয়ে। ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালে ত্রি বার্ষিক সম্মেলনের কমিটি দিয়ে চলছে উপজেলা যুবলীগ। ২০১৪ সালের কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রলীগ।  স্বেচ্ছাসেবকলীগ চলছে প্রায় ১০ বছরের অধিক পুরনো কমিটিতে। একই অবস্থা উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ, কৃষকলীগ, ওলামালীগসহ সকল সহযোগি সংগঠন চলছে মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটিতে। ফলে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে এক সময়ের দাপুটে আওয়ামীলীগ। প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব না থাকলেও একই ভাবে মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটিতে চলছে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সকল সহযোগি সংগঠন।
আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল হোসেন সরকার বলেন, দীর্ঘ দিনের মেয়াদ উত্তীর্ন ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজাতে গত মাসে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কমিটি গঠন শুরু করলে সমাজ কল্যান মন্ত্রী মহোদয় আপাত সম্মেলন করতে নিষেধ করেন। তাই আর বর্ধিত সভাও করা হয়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবু বিজয় কুমার বলেন, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কোন ইউনিটে বর্ধিত সভা অথবা সম্মেলন করা হয়নি। আপাত করার কোন প্রস্তুতিও নেই। সমাজ কল্যান মন্ত্রী মহোদয় তো সভাপতি তিনি ভাল বলতে পারবেন কখন এসব সম্মেলন হবে।
আদিতমারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে কোন সম্মেলন করা হয়নি বা করার প্রস্তুতিও নেই। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্বাচনী এলাকা তাই  তার সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়। তবে তিনি দেশে ফিরলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হবে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, ওই দুই উপজেলা মন্ত্রী মহোদয়ের নির্বাচনী এলাকা। তিনি দেশের বাহিরে রয়েছেন। ফিরলে হয়তো তিনি সম্মেলন করবেন। জেলা সম্মেলনের আগে সকল ইউনিটে সম্মেলন করা হবে বলেও জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ