আমাদেরকে অবশ্যই ত্যাগ স্বীকার করে রাজপথে নামতে হবে-মির্জা ফখরুল

নিউজবক্স ডেক্স ১০:২৯, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতায় রাজপথের আন্দোলনে নেতকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পূর্বক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, তারেক রহমানকে যদি দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই ত্যাগ স্বীকার করে রাজপথে নামতে হবে।’
ফখরুল বলেন, ‘আমরা কী রাজি আছি? আমরা অবশ্যই সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো, গণতন্ত্রকে মুক্ত করব। আসুন শান্তিপূর্ণভাবে এই র‌্যালি করে আমরা প্রমাণ করি বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল, বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবে।’
বিকেল তিনটায় নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে এই শোভাযাত্রা নাইটেঙ্গল মোড় দিয়ে শান্তিনগরে এসে শেষ হয়। দলীয় ও জাতীয় পতাকা, রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা এই শোভাযাত্রা অংশ নেয়।
শোভাযাত্রায় মশারী টানিয়ে মহানগর দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা এডিস মশা প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিষয়টি তুলে ধরে। বিএনপির শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই ধারে দাঁড়ানো পথচারীদের করতালি দিতে দেখা গেছে।
মহানগর বিএনপি উত্তর-দক্ষিণ, মুক্তিযোদ্ধা দল, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গল রেস্তারাঁ পর্যন্ত গোটা সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীরা দলীয় পতাকা ও লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বড় বড় প্রতিকৃতি হাতে ‘শুভ শুভ শুভদিন, বিএনপির জন্মদিন’, ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, স্লোগান দেয় কর্মী-সমর্থকরা।
শোভাযাত্রার সম্মুখভাগ যখন নাইটেঙ্গল মোড়ে তখন মিছিলের শেষ ভাগ ছিল ফকিরাপুল বাজার পর্যন্ত। র‌্যালি শুরুর আগে পুরো নয়াপল্টন সড়ক মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শোভাযাত্রা শুরুর আগে ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এই তারা আজকে মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছে, জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশনেত্রীকে আটকিয়ে রেখে জনগণকে মামলা দিয়ে নির্যাতন করে, হত্যা করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এই র‌্যালিতে উপস্থিত হয়েছি। আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সাথে নেই, তিনি কারাগারে বন্দি রয়েছে। আজকে আমাদের মনে রক্তক্ষরণ, অন্যায়ভাবে তারা নেত্রীকে কারাগারে রেখেছে।’
ফখরুল বলেন, ‘আজকে সরকারের সব খেলা শেষ। তারা আমাদেরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, আমরা দুর্বল নই, আগের থেকে আরও শক্তিশালী দল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেল থেকে এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগের চেয়ে আমরা শক্তিশালী, জনগণ আমাদের পেছনে আছে। আজকে র‌্যালি প্রমাণ করেছে, দেশের জনগণ দেশনেত্রীর সাথে আছে, বিএনপির সাথে আছে।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এই সরকার আর আমাদের স্তব্ধ করে রাখতে পারবে না। অনেকে প্রশ্ন করেন দেশনেত্রীর মুক্তি আন্দোলন কখন শুরু হবে? আমি বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এই আন্দোলন আর কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আসুন আমরা আন্দোলনের দিকে যাই। এই সরকার জনগণের নয়, এদের কোনো অধিকার নেই বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা করার।’
প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বক্তব্য দেন।
শোভাযাত্রায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নুল আবদিন ফারুক, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুল হাই, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামা ওবায়েদ, মাহবুবে রহমান শামীম, মীর সরফত আলী সপু, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আমিরুল ইসলাম খান আলিম উপস্থিত ছিলেন।
আরও উপস্থিত ছিলেন- রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান, আবদুল আউয়াল খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, নাজিমউদ্দিন আলম, সেলিম রেজা হাবিব, ইশরাক হোসেন, খন্দকার মারুফ হোসেন, মশিউর রহমান বিপ্লব, শামসুল আলম তোহা, নবী উ্ল্লা নবী, আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, সাদেক খান, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আনোয়ার হোসেইন, হাসান উদ্দিন সরকার, আফরোজা আব্বাস, জেবা খান, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাসান জাফির তুহিন, সালাউদ্দিন ভুঁইয়া শিশির, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
র‌্যালি উপলক্ষে নয়া পল্টনসহ শান্তিনগর পর্যন্ত ব্যাপক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে মোতায়েন করা হয়। শোভাযাত্রার অগ্রভাবে পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ছিল। শোভাযাত্রাটি শান্তিনগরের কাছে এসে মোড় ঘুরে নয়া পল্টনের কার্যালয়ে দিকে চলে যায়।
শোভাযাত্রা উপলক্ষে দুপুর থেকে নয়াপল্টনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর এক ঘণ্টা নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, মালিবাগ, বেইলি রোড, কাকরাইল, বিজয়নগর সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ