সর্বশেষ :

ইলিশ ধরতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, শেষদিনে দাম চড়া

অনলাইন ডেস্ক: ১১:৫৪, ৮ অক্টোবর ২০১৯

নিষেধাজ্ঞার পূর্বের দিন মঙ্গলবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও দাম ছিলো চড়া। ছবিঃ ফারুক লিটু
দেশের অভ্যন্তরীন নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে (৯ অক্টোবর) থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত (২২ দিন) মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এদিকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও শেষদিনে ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বেড়ে গেছে ইলিশের।

বরিশালের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশসহ সব ধরনের ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনব্যাপী সাড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিআইজি বলেন, ‘ জেলা ও উপজেলা মৎস্য দফতর, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ, এপিবিএনসহ অসংখ্য টিম সার্বক্ষণিক নজরদারী করবে। কোথাও কেউ আইন ভঙ্গ করলেই সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই অভিযান রাতেও পরিচালনা করা হবে। অবৈধ পথে ইলিশ পাচার রোধে নৌ পুলিশের টহল জোরদার থাকবে।’ সরকারের এই আদেশ অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ অধিশাখার ইলিশ ধরা বন্ধের ঘোষণা আসার পর থেকেই ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে জেলা মৎস্য দপ্তর। জনসচেতনতা তৈরি করতে ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রজনন বৃদ্ধিতে ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদের ওপর টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ জন্য ইতোমধ্যে তারা লিফলেট বিতরন, পোস্টারিং, মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারনা চালিয়েছেন। তাছাড়া এসময় তালিকাভুক্ত জেলেদের প্রত্যেকে ২০ কেজি করে চাল পাবেন।’

বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো.আজিজুর রহমান জানান, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩ জন জেলে চাল বরাদ্দের সুবিধা পাবেন। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরনের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার পূর্বের দিন দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারী মোকাম ও ছোট-বড় হাটবাজার ইলিশ মাছের দখলে ছিল। নিষেধাজ্ঞা শুরুর শেষ ক’দিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখরিত ছিল ইলিশ মোকামগুলো। মঙ্গলবার নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, যেমন প্রচুর ইলিশ, তেমন অসংখ্য ক্রেতার সমাগম। সরকারি বন্ধ থাকায় এখানকার বৃহৎ পাইকারি পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে ক্রেতাদের ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে সকলকে। নগর সংলগ্ন এলাকাসমূহ ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকেও ইলিশ কিনতে মোকামে ভীড় করেছেন ক্রেতারা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একের পর এক ইলিশ বোঝাই ট্রলার ভিড়তে শুরু করে পোর্ট রোডের মোকামে। শেষ চালানে ট্রলারগুলোতে প্রচুর ইলিশ আসলেও ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বেশ চড়া। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এখানকার পাইকারী বাজার থেকে ৬শ থেকে ৯শ’ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের ইলিশ সংগ্রহ করে মজুদ করা হচ্ছে। শত শত মণ ইলিশ সংগ্রহের পর দিন-রাত সমান তালে প্যাকেজিংয়ের পর তা গাড়ি ভর্তি করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ