সর্বশেষ :

এক বছরে ধর্ষণের শিকার ৪৩৩টি শিশু

নিউজবক্সবিডি, ঢাকা ০১:৫৫, ২৯ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০১৮ সালে সারাদেশে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা গেছে ২৭১টি শিশু। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০০৬ জন। আর বছরটিতে কেবল ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪৩৩টি শিশু।
দেশে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে শিশু মৃত্যুর ওপর তৈরি এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি পরিসংখ্যানটি রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করে সংস্থাটি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রাফিজা শাহীন শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জানান, ২০১৮ সালে ৪৩৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছে ২২টি শিশু। যৌন নির্যাতনের ফলে মারা গেছে একজন। এছাড়াও ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছিল ৫৩টি শিশুর ওপর।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৭ থেকে ১২ বছর। ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা বেশি হন যৌন নির্যাতনের শিকার। বিশেষ করে পুরুষ শিক্ষকের হাতে এই ধরনের নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১২৯ জন। এদের মধ্যে ১৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
গত বছরে শিশুদের বিষয়ে এক হাজার ৩৭টি ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। অন্যদিকে নেতিবাচক ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দুই হাজার ৯৭৩টি, যেখানে ক্ষতিগ্রস্থ শিশুর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৮১১ জন।
রাফিজা শাহীন বলেন, ‘আমাদের দেশে শিশুদের প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান আছে, সেটি আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। আমরা কেন শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাস গড়তে পারছি না, তা নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এখনি করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।’
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহানা হুদা বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে আমারা এই প্রতিবেদনগুলো সংগ্রহ করছি। শুরুতে আমাদের ধারণা ছিল এতে করে শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমবে। কিন্তু হচ্ছে এর উল্টো। মূলত বিচারহীনতার জনই এমনটা হচ্ছে। শাস্তির দিকে মনোযোগ না দিয়ে, সংশোধনে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। নাহলে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে। সঙ্গে এসব ঘটনার বিচার এমনভাবে করতে হবে যেন আর কেউ শিশুদের প্রতি অপরাধ করতে উৎসাহিত না হয়।’
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রনি চাকমা বলেন, ‘যারা অপরাধী তাদের ওপরও একটি স্টাডি করা জরুরি। কেন তারা শিশুদের রেপ করবে? এমন চিন্তা মাথায় আসে কিভাবে সেটি খুঁজে বের করতে হবে আমাদেরকে। বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক। দ্রুততম সময়ে এটি বন্ধ করতে হবে।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ