এখন যেন এফডিসি শ্বশানের মতো

বিনোদন বক্স ১২:৩৪, ২৮ আগস্ট ২০১৯

চলচ্চিত্র নির্মাণের কারখানা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) যা এফডিসি নামেই খ্যাত। প্রতিষ্ঠানটি এখন কার্যত স্তিমিত বা প্রাণহীন। এফডিসি গেইটের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে কেবল হাহাকারের পরিবেশ দেখা যায়। কর্মহীন চলচ্চিত্রের লোকজনের এলোমেলো আড্ডা ও কাজের সন্ধানে আনাগোনা ছাড়া নির্মাণ কাজ তেমন একটা দেখা যায় না।
কালে ভদ্রে হঠাৎ হঠাৎ শুটিংয়ের দেখা মেলে। তাও টেলিভিশন অনুষ্ঠান, নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র কিংবা ওয়েব সিরিজের। এফডিসিতে চলচ্চিত্রের শুটিং দুর্লভ হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সবকিছু আগের মতো থাকলেও নেই শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যস্ততা। বিভিন্ন শুটিং ফ্লোর ছাড়াও মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্স, কড়ইতলা, ঝর্ণা স্পটসহ সব আগের মতোই আছে। এসব স্পটগুলো দখল করে নিয়েছে টিভি চ্যানেলগুলো। এফডিসিতে প্রবেশ করলেই এমন চিত্র চোখে পড়ে।

ফ্লোরগুলোর দিকে তাকালে চোখ পড়ে টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান শুটিংয়ের। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল সারাবছরের জন্য এফডিসির ফ্লোর ভাড়া নিয়ে রেখেছে। যার কারণে এফডিসির চেহারা পাল্টে গেছে। চলচ্চিত্রের পোস্টারের বদলে দেখা যায় নাটক বা টিভি অনুষ্ঠানের পোস্টার। সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের পরিবর্তে দেখা যায় টিভি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের।
কাজ না থাকলে এফডিসি গিয়ে কি হবে- এমন হতাশা প্রকাশ করেন চলচ্চিত্রের অনেক সিনিয়র শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র শিল্পী আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘এফডিসিতে সিনেমা নির্মাণ হবে, শুটিংয়ে গমগম করবে, এটাই চিরকাল দেখে আসছি। আর এখন যেন এফডিসি শ্বশানের মতো পড়ে আছে। এ চিত্র দেখে কেবল পুরনো স্মৃতিতে ফিরে যাই। এ স্মৃতি নিয়েই সান্তনা পেতে চাই। যা খুবই কষ্টদায়ক ব্যাপার।’
একজন  পরিচালক তার অতীতের সুবর্ণ সময়ের সিনেমা নির্মাণের স্মৃতিতে বলেন, ‘একটা সময় সকাল থেকে রাত অবধি এফডিসিতে একদিনে ৭/৮টি সিনেমার শুটিং চলতো। কালার ল্যাব, ডাবিং থিয়েটার, এডিটিং প্যানেল কর্মব্যস্ত ছিল। আর এখন সপ্তাহে বা মাসেও একটা সিনেমার শুটিং হয় না। এটা আমার কাছে এক কষ্টদায়ক ব্যাপার। জীবনে আর কিছু করা শিখিনি তাই এখন অভাব-অনটনে জীবন কাটছে।’
শুধু তিনিই নন, এমন কষ্টদায়ক খবর বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক শিল্পী, নির্মাতা ও কলাকুশলীরাও। সিনেমার কাজ কমে যাওয়ায় এমন অনেকেই হতাশাজনক জীবনযাপন করছেন। যাদের একমাত্র উপার্জন ছিল সিনেমায় কাজ করা, তারা অনেকে অন্যপথ বেছে নিয়েছেন। বছরে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা যেমন কমেছে, সিনেমা হলের সংখ্যাও দিন দিন কমছে।

অনেক পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পীর আশা, একমাত্র সরকার উদ্যোগ নিলেই প্রাণের এফডিসি ফিরে পাবে সোনালি দিন, আগের জৌলুস। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করেন, সিনেমা হল বাড়াতে হবে, প্রযোজকদের ফিরিয়ে আনতে হবে, সিনেমা নির্মাণ বাড়াতে হবে। চলচ্চিত্রকে ঘোষিত শিল্পে কার্যকর করতে হবে, নির্মাতাদের ব্যাংক লোন দিতে হবে এবং এফডিসির আধুনিকায়ন করতে হবে। তাহলেই কেবল এই শিল্পের উত্তোরণ সম্ভব।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ