সর্বশেষ :

এমপি সাহেব যখন বিশ্বকাপ কান্ডারি

প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ০৭:০১, ৫ মে ২০১৯

মাশরাফি বিন মর্তুজা, বাংলাদেশের এক জলন্ত কিংবদন্তি। যার কথা আমার মতো এক ক্ষুদ্র লেখকের পক্ষে বর্ণনা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে আজ তিনি গণ মানুষের একজন প্রতিবাদি কণ্ঠস্বর। সংসদের একজন আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব। জন্ম বাংলাদেশের একটি ছোট্ট অথচ সবুজে ঘেরা, মায়াময় এক জেলা নড়াইলে। এজন্য আমরা সবাই তাকে নড়াইল এক্সপ্রেস বলে ডাকি। স্থানীয় মানুষজন সবাই আবার তাকে আদর করে কৌশিক বলে ডাকে। বিভিন্ন গ্রামে একসময় কৌশিক ক্রিকেট খেলে বেড়াতেন। মানুষকে আনন্দের বন্যায় ভাসাতেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফির আবির্ভাব অনেকটা ধুমকেতুর মত। ঢাকা লিগগুলোতেও তাকে ঐ ভাবে দেখা যায় না। অল্প কিছু দিন খেলেই তিনি জাতীয়দলে ঢুকে পড়েন। আর আজতো তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের মহা তারকা। ভবিষ্যৎ ছেলে-মেয়েরা তাকে আদর্শ মেনে ক্রিকেট খেলছে। অমায়িক একজন মানুষ মাশরাফি ভাই। সমস্ত টিমকে সবসময় প্রাণবন্ত ও উজ্জীবিত করে রাখেন তিনি। দলের ভিতরে প্রত্যেকের সাথে তার আন্তরিক সম্পর্ক বিরাজমান। তিনি নিজেকে সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। তিনি মূলত একজন পেস বোলার, আবার কখনও তিনি একজন মারদাঙ্গা ব্যাট্সম্যান। সর্বোপরি একজন একনিষ্ঠ ও নিবেদিত প্রাণ ক্রিকেটার। মানুষ হিসেবেও মাশরাফি অত্যন্ত বিনয়ী ও বুদ্ধিদীপ্ত। আর এ কারণেই তিনি এখন নড়াইল-২ আসনের একজন জনপ্রিয় সাংসদ। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে নড়াইলকে উন্নত জেলায় পরিণত করবেন এই প্রত্যাশা করি আমরা সকলে। সাথে সাথে এটাও প্রত্যাশা করি তিনি অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ-২০১৯ এ বাংলাদেশকে ভালো কিছু উপহার দিবেন। আমরা বিশ্বকাপে এবার ভালো একটি দল পেয়েছি। আশাকরি বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলবে। কারণ আমাদের টিমের দলনেতার মধ্যে একটা ক্যারিশমেটিক পাওয়ার আছে। উনার ছোঁয়া পেলে অনেক দূর্বল টিমও জ্বলন্ত হয়ে ওঠে। যার প্রমাণ আমরা বিপিএল-এ পাই।

সত্যিই অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির জুড়ি মেলা ভার। বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম একজন অধিনায়ক তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন শান্ত ধীরস্থির, মাঠে আবার তিনি অত্যন্ত লড়াকু। মাশরাফির একটা কথা খুব ভালো লাগে প্রত্যেকটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। মাশরাফি তরুণ খেলোয়ারদের খুব পছন্দ করেন। তরুণদের সময় দেওয়ার পক্ষে তিনি। ইনজুরি বার বার তার খেলোয়ারি জীবনে আঘাত এনেছে। ক্রিকেট তাকে মান যশ খ্যাতি সবকিছু দিয়েছে, আবার অনেক বাস্তবতাও বুঝিয়েছে। পুড়ে পুড়ে আজ তিনি খাঁটি সোনা হয়েছেন। লোভহীন মোহহীন ও সরল এই মানুষটির কাঁধে আজ ষোল কোটি মানুষের আকাঙ্খার বোঝা তিনি কি পারবেন বিশ্ব জয় করতে! আমরা আশা করি তিনি পারবেন, কারণ তিনি যে, সর্বজয়ী।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ