সর্বশেষ :

কটিয়াদীতে জমে উঠেছে ৫০০ বছরের পুরনো ঢাকের হাট

অনলাইন ডেস্ক ০৩:১৩, ৪ অক্টোবর ২০১৯

কটিয়াদীতে এবারও বসেছে দেশের একমাত্র ঢাক-ঢোলের হাট। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা সদরের পুরোনো বাজার প্রেসক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সঙ্গে এ হাট বসেছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী ৫শ’ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী বিরাট ঢাকের হাট শুরু হয়েছে।

জনশ্রুতি আছে, ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় সর্বপ্রথম তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে চারিপাড়া গ্রামে ছিল রাজার প্রাসাদ। পূজা উপলক্ষে রাজাপ্রাসাদ থেকে সুদূর বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ) পরগণার বিভিন্ন স্থানে বার্তা পাঠানো হতো ঢাক-ঢোল বাঁশিসহ বাদ্যযন্ত্রীদের আগমনের জন্য। সে সময় নৌপথ ব্যবহার করা হতো। বাদ্যযন্ত্রীরা কটিয়াদী-মঠখোলো সড়কের পাশে পুরনো ব্রহ্মপুএ নদের তীরে যাত্রাঘাট নামের স্থানে পূজার দুইদিন আগে এসে পৌঁছাতেন।

পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী মসুয়া গ্রামে বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায় চৌধুরীর বাড়িতে মহা ধুমধামে পূজা শুরু হয়। সেইসঙ্গে চলে বিভিন্ন পূজার বাদ্যযন্ত্রের প্রতিযোগিতা। দিন দিন পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জমিদারদের মধ্যে ঢাকের হাটের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দ¦ন্দ্ব শুরু হয়। অবশেষে যাত্রাঘাট থেকে স্থান পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরবর্তী আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কটিয়াদী পুরনো বাজারে প্রেসক্লাবের সামনে বিরাট ঢাকের হাট গড়ে উঠে।

বৃহওর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, ঢাকা, ব্রাক্ষ্রণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক দুর্গাপূজার আয়োজক এই হাট থেকে পূজার দু-একদিন আগে ভাড়ায় বায়না দিয়ে বাদ্যযন্ত্রীদের নিয়ে যেতেন।

আজও বিক্রমপুরের ভাটি অঞ্চল, কুমিল্লার হাওর অঞ্চল থেকে শত শত বাদ্যযন্ত্রী এ হাটে আসেন। ঢাক-ঢোল, সানাই, বিভিন্ন ধরনের বাঁশি, কাঁসিসহ হাজার হাজার বাদ্যযন্ত্রের পসরা বসে। নাচসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে বাদ্যযন্ত্রীরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেন।

সাধারণত একটি ঢাক ১০ থেকে ১২ হাজার, ঢোল ৭-৮ হাজার, বাঁশি প্রকারভেদে ৫ থেকে ৭ হাজার, ব্যান্ডপার্টি ছোট ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার এবং বড় ৬০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হয়। বাদ্যযন্ত্রীরা পূজামণ্ডপে বাজনা বাজিয়ে দর্শক ও ভক্তদের আকৃষ্ঠ করেন।

বিক্রমপুরের ঢাকী অরবিন্দু পাল বলেন, আমার দাদা-বাবারা এই হাটে আসতেন। আমিও এই ঢাকের হাটে ২০ বছর ধরে আসি। আয়োজকরা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন।

নেত্রকোনার সুমন সাহা বলেন, এই হাট থেকে প্রতিবছরই আমরা ঢাকীদের ভাড়ায় পূজার জন্য নিয়ে যাই। আজ তাদের নিতে এসেছি। ঢাকীদের সঙ্গে দরদাম হচ্ছে। দামে মিলে গেলে তাদের নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবো।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত বলেন, ঢাকীদের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মুশতাকুর রহমান বলেন, ৫শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। উপজেলা প্রশাসন আগত বাদ্যযন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ