সর্বশেষ :
রাঙ্গাবালীতে নিজস্ব অর্থায়নে সেবা প্রদান করছে একঝাঁক তরুণ

করোনা প্রতিরোধে ‘এন্টি করোনা ইয়ুথ সোসাইটি রাঙ্গাবালী’র অক্লান্ত পরিশ্রম!

রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রতিনিধি ০১:৩৩, ৩ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে রাঙ্গাবালীতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী টিম ‘এন্টি করোনা ইয়ুথ সোসাইটি রাঙ্গাবালী’।

২৫ সদস্য বিশিষ্ট টিমটি মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যাত্রা শুরু করে এবং বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

তারা শহর ও গ্রাম পর্যায়ের মানুষের মাঝে করোনার সতর্কতার লক্ষ্যে বাজারগুলোতে জীবানুনাশক স্প্রে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্কতা মুলক আঞ্চলিক ভাষায় মাইকিং, মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ ও লিফলেট বিতরণসহ অন্যান্য সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

নিস্বার্থভাবে তারা নিজেদের অর্থায়নে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিটি ইউনিয়নের দরিদ্রদের হাতে মাস্ক, গ্লোবস, হ্যান্ড ওয়াশ ও সাবান বিতরণ করেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন হাট বাজারের দোকানের সামনে গোলাকার বৃত্ত একে রাঙ্গাবালীবাসীর নজরে আসেন তারা। এবার নতুন করে অসহায় মানুষকে ঘরমুখি করতে বাড়ি যেয়ে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। ভয়াভহ করোনা প্রতিরোধে সময় উপযোগী যেকোনো ধরণের প্রদক্ষেপ গ্রহন করতে প্রস্তুত বলে জানান টিমের সদস্যরা।

গত সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলার ঘরবন্দি, দিনমজুর ও হতদরিদ্র এমন কয়েকটি পরিবারের হাতে তারা খাবারের প্যাকেট তুলে দেন। খাবারের প্যাকেটের মধ্যে চাউল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ ও সাবান পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।

 

এছাড়াও ওইসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যাদের মাস্ক ছিলোনা তাদের মাস্ক ও একই সাথে জনসচেতনতা মূলক লিফলেট উপহার প্রদান করেন তারা।

এসব বিষয়ে সেচ্ছাসেবী টিমের উদ্যোক্তা আসাদ বলেন, করোনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। বিষয়টি আজ যারা অবহেলা করছেন তারা আগামিতে এর ফল ভোগ করবেন। নিজে সচেতন থেকে লাভ নেই। অন্যকেউ সচেতন করতে হবে। অন্যথায় একসাথে ডুবে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

তিনি বলেন, স্ব স্ব যায়গা থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে এখন অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের কাছে করোনার থেকে ঘরের চুলায় আগুন না জ্বলাটা বেশি ভয়ানক হয়ে উঠেছে। তাদের ঘরের চাল শেষ। পকেটও শুন্য এভাবে লকডাউন পরিস্থিতি থাকলে জীবিকার তাগিদে তাদের ঘরে থাকাটা অসম্ভব হয়ে উঠবে। তাদের ঘরছাড়াটা শুধু তাদের জন্য নয় আমাদের সবার জন্যই বিপদজনক। ফলে সমাজের বিত্তবানদের এখনি অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান আসাদ।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহমেদ সার্বিক সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।

 

উল্লেখ্য, টিমের প্রতিষ্ঠাতা আসাদ, অন্যতম সদস্য কামরুল হাসান, হিমেল, ইস্তিয়াক, হৃদয়, শাহির, নিপু, ইমরান, রেদোয়ান, বাবু তাং, সৌরভ, সান্ত, নাইম, নাহিদ গাজী, সম্রাট মির, রাফসান, জুনাইদ, আবিদ, শোভন, রাজিবসহ একঝাঁক তরুণ করোনা রোধে রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাদের এখন খাওয়া ঘুম নেই। তারা যেন করোনার ছোবল থেকে মানুষকে মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তারা আশাবাদি শ্রীঘ্রই নতুন সূর্য উঠবে। বিলীন হয়ে যাবে করুনাহীন এ করোনা।

 

সকলের সার্বিক সহযোগিতা পেলে পরবর্তীতে টিমটিকে ‘ইয়ুথ সোসাইটি ভোলান্টিয়ার রাঙ্গাবালী’ নামে সংগঠনে রুপান্তরিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন সকল সদস্যরা।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ