সর্বশেষ :

কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নয়-ট্রান্সপারেন্সি

নিউজবক্সবিডি ১০:০৫, ১০ জুন ২০২০

অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ চায় না ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অন্যদিকে, মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের সকল প্রকার ক্রয়, বিতরণ, ব্যয় ও বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের রোডম্যাপের ঘোষণা ও এর বাস্তবায়ন দেখতে চেয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) টিআইবি থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, ‘করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে সচল করা, রাজস্ব আয় বাড়ানোসহ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার নামে আসন্ন জাতীয় বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে মর্মে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে টিআইবি সরকারকে এ জাতীয় দুর্নীতি সহায়ক ও স্ববিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে। একইসঙ্গে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাতের সত্যিকার উন্নয়নে অংশীজনের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং করোনোর প্রভাবে নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়া মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানোর দাবি টিআইবির। শুধু বরাদ্দ বা আওতা বাড়ানোই নয়, এসব খাতে সকল প্রকার ক্রয়, বিতরণ, ব্যয় ও বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের রোডম্যাপের ঘোষণা ও এর বাস্তবায়ন দেখতে চায় সংস্থাটি।’
বার্তায় বলা হয়, সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থী হলেও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী সরকার আসন্ন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করতে যাচ্ছে। আবাসন খাতে ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনা ও উন্নয়ন এবং শেয়ার বাজারের বিনিয়োগেও এই অনৈতিকতার বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নামে সরকারের এমন পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে বড় পরিসরে আবারও কালোটাকা সাদা করার সুযোগই কেবল দেওয়া হচ্ছে না, বরং অর্থের উৎস নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রশ্ন করার বিধানটিও উঠিয়ে দিতে যাচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘শূন্য সহনশীলতার’ ঘোষণা আর দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকে বৈধতা দেওয়া শুধু পরস্পর বিরোধী নয়, বরং সরাসরি দুর্নীতি সহায়ক, অনৈতিক, অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। বছরের পর বছর এই সুবিধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোনো উপকার হয়নি, উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়নি, কোনো বিনিয়োগতো নয়-ই। অথচ অনৈতিকতা প্রশ্রয় পেয়েছে আর সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এই ব্যবস্থা সৎপথে উপার্জনকারী নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক, এমন বাস্তবতায় সরকারকে এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি উল্লেখ করে বলা হয়, ‘পাশাপাশি বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়া লক্ষাধিক কোটি টাকার যে খতিয়ান দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময়ে বেরিয়ে এসেছে, তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অতি সম্প্রতি একাধিক ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীর অজ্ঞাত উৎস থেকে দেশের বাইরে বিপুল বিনিয়োগের সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে। সরকারকে এইসব ‘দৃশ্যত আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়া’ প্রভাবশালীদের আরও প্রশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে উপযুক্ত কার্যকর জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকার এখনো মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষীদের হাতে জিম্মি হয়ে যায়নি।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ