ক্ষমা করবেন মন্ত্রী মহোদয়…

সাজেদুল ইসলাম চম্পা ১১:৩৬, ২৩ মে ২০১৯

ক্ষমা করবেন মন্ত্রী মহোদয়। জানিনা সার্থক দাসের পোষ্টটি সত্য কিনা। যদি সত্য হয় তবে দুইখান কথা আছে।

আপনাকে জাতির জনকের কন্যা মন্ত্রী বানিয়েছেন কি শুধু আপনার পরিবার আর আপনার এলাকার জন্য। যদি স্টেশানের নাম পরিবর্তন হয় তাহলে তা হবে খুবই দুঃখজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান করবেন এতে আমাদের আপত্তি থাকবার কথা নয়। তবে সেটা একটা এলাকার স্বাতন্ত্র বিক্রি দিয়ে নয়। আপনার ভাইয়ের নামে একটা স্কুল, কলেজ বা খেলার মাঠ বা বড় অডিটোরিয়াম করে তার নামে নামকরন করতে পারতেন। পঞ্চগড়ই হোক আর পচাঁগড়ই হোক এটা তো একটা ঐতিহ্য বহনকারী একটা স্থান, যা এলাকার কোটি কোটি মানুষ বুকে ধারন করে আছে। শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী জেলার নামে নামকরন ছিলো স্টেশানটির।
একটা কথা কি আপনার মনে পরে মন্ত্রী মহোদয়? এই তো সেদিন পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক সহ বড় বড় মহাত্নন রা আমার দেশের মানুষ, দেশের মন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে কটু কথা বললো। বিচারেরর কাঠগড়ায় দাঁর করালেন আমার জননেত্রীর সচ্ছতার অহংকারকে। তারা সেদিন পরাজিত হয়েছিলো, বিজয় হয়েছিলো আমার নেত্রীর। সোখান থেকে বের হয়ে নেত্রী আমাদের নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যা আজ আমাদের অহংকার, যা আজ শেষের পথে। মনে পরে মন্ত্রী মহোদয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, সফল সেতুমন্ত্রী জননেতা ওবায়দুল কাদের সাহেব সেদিন বলোছিলেন ” পদ্মা ” সেতুর নাম হবে,” শেখ হাসিনা ” সেতু। আমাদের আপা তা সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে জোড় গলায় বলেছিলেন, ওটার নাম পদ্মা সেতুই হবে। শুধু ওবায়দুল কাদের ভাই ই নন, সারা বাংলার মানুষও আজও চায়, পদ্মা সেতুর নামকরন হোক জননেত্রী ” শেখ হাসিনা ” সেতু। কিন্তু জাতীর জনকের কন্যা তা চাননি।
এখন আপনাকে একটা অন্য সত্যভাষণ বলি, আপনি রেল মন্ত্রি হবার পর আপনার জেলা শহর থেকে একটি ট্রেন চালুর প্রস্তার করলেন। ঢাকা টু পঞ্চগড়। চাইতেই পারেন, এটা দোষের কিছু নয়। রাজমাহী থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম, ঢাকা থেকে সিলেটেও এরকম ট্রেন চলাচল করছে। এগুলো ননষ্টপ। আর আপনি কি করলেন? আপনি করলেন আপনার জেলা ষ্টপ, বাদবাঁকি ননষ্টপ। ট্রেনটি আপনার জেলার ঠাকুরগা, দিনাজপুর আর পার্বতীপুর থামবে। তারপরে ঢাকা ক্যান্টঃ স্টেশান। চমৎকার। ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে তিনটা ষ্টপেজ তারপরে ২৫০ কিলোমিটার ননষ্টপ। ভেবে দেখেছেন পার্বতিপুর থেকে ট্রেনটা যখন ছাড়বে তখন এই ২৫০ কিঃ মিঃ পথে কমপক্ষে ২৫ টি স্টেশানে কোনো স্টেশান মাস্টার বা কোন কর্মকর্তা কর্মচারী নেই। প্রায় ১০০ খেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলাচলকারী সকল ট্রেন থেমে থাকবে। ভেবে দেখেছেন কি ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে আপরার জেলাষ্টপ ট্রেনটি চালু হবার পর। ট্রেন বাড়ানোর আগে লাইন ডবল করুন মন্ত্রী মহোদয়। পূর্বের রেলমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা কিন্তু আমাদের সুখের নয়। একজন নেত্রী শৃংখলা ফেরাতে দিনরাত কাজ করবেন, আর সবাই মিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবো এটা কেমন কথা?

এবার একটু নিজেদের দিকে ঝোল টানি। সবাই যখন টানছেন আমরা টানলে দোষ কি? মাননীয় রেলমন্ত্রী মহোদয়, ছবিতে যে বৃদ্ধকে দেখতে পাচ্ছেন, তিনি হলেন এই উত্তরবঙ্গে বেঁচে থাকা জাতীর পিতার একমাত্র সহচর। তিনি ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের এম পি এ ছিলেন। আপনার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের সাথে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর এম পি ছিলেন। ইনি ১৯৭১ সালে ভারতে র কামাড়পাড়াতে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধু তাকে বগুড়া জয়পুরহাটের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁর বয়স এখন ৯৩ বছর। তিনি গত তিনদিন আগে তার শহরের আপনার জেলাননষ্টপ ট্রেনটির যাত্রাবিরতির জন্য ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রাতে ইঞ্জিনে উঠে আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন।

কি আশ্চর্য্য তাই না, আজ এক এম পি মুক্তিযোদ্ধার নামে শতবছরের ঐতিহ্য পরিবর্তন করে জেলা শহরের নাম পরিবর্তন করে তার নামে ষ্টেশান হচ্ছে, তার ভাইয়ের ট্রেন চলবে সেই স্টেশান থেকে। আর সেই ট্রেনটা যাবে আরেক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক এমপির বুকের উপর দিয়ে ননষ্টপ নাম নিয়ে। ৯৩ বছরের মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি দাঁড়িয়ে আন্দোলন করবে ট্রেনটি পাঁচ মিনিটের একটা যাত্রা বিরতির জন্য ৪১ ডিগ্রি তামাত্রাতে রোজা থেকে। কারন এই বৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর সহচরের শহরের স্টেশনটিতে ১৮৭৮ সাল থেকে কোনো ট্রেন না দাঁড়িয়ে যায়নি। যেখানে ষ্টপেজ ছিলো দার্জিলিং মেল, আসাম মেল এর। যে ট্রেনের প্যাসেঞ্জার ছিলেন মহাত্মা গান্ধী,শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং বঙ্গবন্ধুর মতো মহামানবেরা। অথচ সুজনের ট্রেন আজ এই সান্তাহার স্টেশানে দাঁড়াবে না, এটা ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক এমপি সাবেক গভর্নর বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের মানু্ষ জনাব কছিম উদ্দীন আহম্মেদ।

সূত্র-সাজেদুল ইসলাম চম্পা’র ফেসবুক পাতা

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ