সর্বশেষ :

খালেদা জিয়া ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’র জন্য সম্মতি দেননি

নিউজবক্স ডেক্স ০৩:৩৯, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

দুর্নীতির দুই মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের পরও ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’র জন্য সম্মতি দেননি। আদালতকে এই তথ্য জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। তারা জানান, আর্থ্রাইটিস ও ব্যাকপেইনের  চিকিৎসার জন্য যেসব মেডিসিন পুশ করা দরকার তার জন্য খালেদা জিয়া অনুমতি দেননি।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন, মো. মাসুদ রানা, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।
শুনানির আগে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। এরপর জামিন আবেদন ও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনের ওপর বেলা ১১টায় শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে আদালত মেডিক্যাল রিপোর্ট পড়ে শোনান। রিপোর্টে সাত সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড তাদের মতামত দিয়েছেন।
রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন, অ্যাজমা, ব্যাকপেইন, আর্থ্রাইটিস সমস্যা রয়েছে। তার ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আর্থ্রাইটিস ও ব্যাকপেইনের চিকিৎসার জন্য যেসব মেডিসিন পুশ করা দরকার, তার জন্য খালেদা জিয়া অনুমতি দেননি। এতে করে উন্নত চিকিৎসা নেওয়া যাচ্ছে না।
রিপোর্ট পড়া শেষে আদালত বলেন, ‘আমরা এখন আদেশ দেবো।’
খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘আমাদের একটু আবেদন রয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) কেন অনুমতি দেননি, তা জানা দরকার। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমরা তার কাছে জানবো, কেন তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন না।’
তখন আদালত বলেন, ‘এটা (দেখা করার অনুমতি) আমরা দিতে পারি না। এটার কোনও সুযোগ নেই। আমরা আদেশ দিচ্ছি।’
জয়নুল আবেদীন অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘এখনই আদেশ দিয়েন না। আমাদের জানা দরকার, কেন তিনি চিকিৎসা নেবেন না। প্লিজ আমাদের অনুমতি দেন।’
আদালত বলেন, ‘এটা আমরা দিতে পারবো না। আমরা আদেশ দেবো।’
তখন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আদালতকে বলেন, ‘যে মেডিসিন পুশ করার কথা বলা হচ্ছে, তা বিদেশি ওষুধ। তা পুশ করার পর কী রিঅ্যাকশন হবে সেটা দেখা দরকার।’ এসময় আদালত বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) কি এক্সপার্ট? তিনি কি ডাক্তার? তিনি কীভাবে বুঝবেন?’
আদালত আরও বলেন, ‘আমরাও (বিচারপতিরা) চিকিৎসার জন্য দরকার হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদের মতামত নিয়ে চিকিৎসা করি। আমাদের একজন বিচারপতি প্যারালাইজড হয়ে গেছেন, তিনি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে ঢাকা মেডিক্যালের ডাক্তারের মতামত নিয়ে গেছেন।’
এ পর্যায়ে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের দেখা করে জানার দরকার।’
জবাবে আদালত বলেন, ‘আপনারা কি ডাক্তার? আপনারা কি জানেন ট্রিটমেন্ট কী?’
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের বারবার আপনাদের কাছেই আসতে হয়। আমাদের সবকিছু বন্ধ করবেন না। আমাদের একটু অনুমতি দিন। আর এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রবিবার (১ মার্চ) দিন ধার্য রাখুন।’
এ সময় আদালত বলেন, ‘আমাদের একটি প্ল্যান রয়েছে। কোর্টের নিজস্ব প্ল্যান থাকে। সেই অনুযায়ী কোর্ট চলে।’
জয়নুল আবেদীন আবার বলেন, ‘এইটুকু বিবেচনা করুন। আপনাদের কাছে বারবার আসতে হয়। আগামী রবিবার আদেশের জন্য রাখুন।’
এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ড রিপোর্ট দিয়েছে। তিনি যদি চিকিৎসার অনুমতি না দেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ডের কী করার আছে? উনার (খালেদা জিয়া) সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ