সর্বশেষ :

খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে সাপাহারে লুৎফরের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি

সোহেল রানা চৌধুরী, সাপাহার ০৬:৪১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে নওগাঁর সাপাহারে লুৎফরের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি।
জানা গেছে মো: লুৎফর রহমান নামের এলাকার শিক্ষিতএক বেকার যুবক উপজেলা সদরে কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে উপার্যনের পথ খোজে। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে একটি ব্যতিক্রমী কাজের আগ্রহে কোচিং বানিজ্য ছেড়েে একটি ভাড়া বাসায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। লুৎফরের চেষ্টার সাথী হতে সমাজের বিভিন্ন পেশা শ্রেণীর মানুষ এগিয়ে আসেন। আশ-পাশের গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের খুজতে থাকেন।
স্বল্প সময়ে বিদ্যালয়টি সরকারে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের নজরে আসে। শুরু হয় বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারী প্যাটান্ট পুরনের অভিযান এবং প্যাটান্টটি পূর্নও হয়। চলতে থাকে তার ভাড়াস্থ ভবনে প্রতিবন্দ্বী বিদ্যলয়ে প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের পরিচর্যা ও লেখাপড়ার কাজ। শিক্ষার্থীর নিকট থেকে কোন প্রকার ফি না নিয়েই ওই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা নিজ উদ্যোগে প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা দিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করা হয়  এবং সমাজের বিভিন্ন লোকের আর্থিক সহযোগীতায় প্রতিবন্দ্বী শিক্ষার্থী ছেলে মেয়েদের টিফিনেরও ব্যাবস্থা করা হয়।
প্রতিবন্দ্বী ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার সমস্যা বিবেচনায় সাপাহার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আকবর আলী ও তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ্ চৌধুরীর পরিষদ হতে তিনটি ব্যাটারী চালিত ভ্যান অনুদান প্রদান করেন। এর ফলে ছেলে মেয়েদের আসা যাওয়ার সমস্যা দুর হয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়টি সেই ভাড়াস্থ্য বাসা ছেড়ে দিয়ে আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুরীর উদ্যোগে উপজেলা সদরের মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত মহবুব উজ্জামান পাবলিক গ্রন্থাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কিন্তু দু:খের বিষয় বিদ্যালয়টিতে কর্মরত শিক্ষক মন্ডলী বেতন ভাতার অপর্যাপ্ততা, বিদ্যালয়ের ভ্যানগাড়ীগুলি বিকল হওয়ায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সাংঘাতিক অর্থাভাবে তারা বিদ্যালয়ের নামীয় নিজস্ব জায়গায় বিদ্যালয় নির্মান ও বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী ভ্যানগুলি চালু করতে পারছেনা লুৎফর।
ব্যতিক্রমধর্মী ও সেবার মানসিকায় গড়েতোলা প্রতিবন্দ্বী বিদ্যালয়টি চরম অর্থ সংকটে পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। উপজেলার প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের অভিভাবক ও বিনা বেতনে পাঠদানকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীগন সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জরুরী ভিত্তিতে উপজেলার এই বিদ্যালয়টিকে সচল রাখতে এবং সমাজের অবহেলীত ও অসহায় প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের যত্নে  তাদের লেখা পড়া শিখিয়ে দেশের কাজে লাগানোর জন্য সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ