সর্বশেষ :

গাজীপুরে উন্নত ভবিষ্যতের সন্ধানে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো রনি

ইউনুস আলী ফাইম, নওগাঁ ০২:০৮, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গাজীপুরের জেন্টস পার্লারের এক কর্মচারীকে পিটিয়ে খুন করেছে তার সহকর্মীরা। লাশ হাসপাতালে ফেলে পালানোর সময় ওই পার্লারের মালিকের স্ত্রীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের নাম আসাদুল রনি মন্ডল (৩৫)। সে নওগাঁ জেলা সদর থানার ভবানীপুর এলাকার জয়নুদ্দীনের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বোন ঝর্ণা বেগম।

শনিবার সন্ধায় গ্রামের বাড়ি রনির মরদেহ পৌছালে ভবানি পুর স্কুল মাঠে নামাজে জানাজা শেষে নওগাঁ সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
জিএমপির সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বরুদা এলাকার লাইজুর একটি ভাড়া বাসায় থেকে পার্শ্ববর্তী জোড়পুকুর পাড় এলাকার এ্যাডাম জেন্টস পার্লারে রনিসহ গ্রেফতারকৃতরা কাজ করে। এদের মধ্যে লাইজুর স্বামী রিঙ্কু ওই পার্লারের তিনজন মালিকের মধ্যে একজন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো বগুড়ার আদমদিঘী থানার বশিকুর গ্রামের মাহবুবুল আলম সর্দারের ছেলে রিমন শেখ (১৯), একই থানার ডহরপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে আজিজুল হক (২৬), গাজীপুর সদর থানার হাড়িনাল লেবুবাগান এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আল-আমিন (১৯), একই জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার এরশাদনগর এলাকার রিঙ্কু শেখের স্ত্রী আজমেরী আক্তার লাইজু (২৫) ও নওগাঁ জেলা সদর থানার ইলিশা বাড়ি এলাকার বোরহান উদ্দিনের ছেলে রিমন (১৮)।

গত কয়েকদিন ধরে লাইজুর ৮/৯ বছর বয়সের এক ননদকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রনিকে পার্লার থেকে বাসায় ডেকে নিয়ে যায় তার সহকর্মীরা। সেখানে নিয়ে রনিকে এলোপাথাড়ি মারধর করে তারা। একপর্যায়ে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে সহকর্মীরা সেখান থেকে রনিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় হাসপাতালে আনয়নকারীরা রনির লাশ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি কক্ষে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে হাসপাতালে কর্মরত আনসার সদস্যরা দু’জনকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করে।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, রনিকে মৃত অবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। নিহত রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।

গাজীপুর সদর থানার এসআই সাইদুর বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

নিহত রনির পরিবারের সদস্যরা বলেন, ৮/৯ বছরে বাচ্চাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই হোসেন মন্ডল বাদী হয়ে জিএমপির সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

জিএমপি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বলেন, এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করাহয়েছে এর মধ্য ৩ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে ।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ