সর্বশেষ :

চলন্তিকা ঝিলপাড় পোড়া বস্তি যেন একটি দর্শনীয় জায়গা!

মো: আবুল বায়েস ১০:০৯, ১৯ আগস্ট ২০১৯

পুড়ে যাওয়া বস্তির সব প্রবেশ মুখেই মানুষের জটলা। সবাই ভেতরে প্রবেশ করছেন। প্রায় ঠেলাঠেলি করে ভেরতে ঢুকছেন সবাই। বস্তির পোড়া গন্ধে কারো কারো অস্বস্থিবোধ হলেও ঢুকছেনই। সবার মধ্যে কৌতুহল-আলোচনা, কীভাবে এটি পুড়লো? ভেতরে থাকা এতো মানুষ বেঁচে ফিরলেন কীভাবে? কেউ কী ইচ্ছা করে এত বড় বস্তি পুড়িয়ে দিয়েছে? আগুনে সব ঘর পুড়ে গেছে।

ঠাঁই হারিয়ে পাশের বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনে আশ্রয় নিয়েছেন মিরপুরের রূপনগরের চলন্তিকা মোড়ের বস্তির বাসিন্দারা। অর্ধাহারে দিন পার করছেন তারা।

পরিবার, বন্ধু কিংবা স্বজনদের নিয়ে অনেকে দেখতে আসছেন চলন্তিকায় পুড়ে যাওয়া ভগ্নস্তুপ, যেন মানুষের ঢল। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, সংঘবদ্ধ হয়ে সেলফি তুলছেন। আবার অনেক অতি উৎসাহী ব্যক্তি করছেন ফেসবুক লাইভও। যেন এটি দর্শনীয় জায়গা।

রূপনগর এলাকার আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা এখানে ঘুরতে এসেছেন। এদের মধ্যে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে অনেকে এসেছেন। আগতদের মাঝে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। অনেকে বলেন, ‘শুধু মাত্র কৌতুহল ও দেখার ইচ্ছা থেকে এখানে এসেছি। দেখতে চেয়েছি, পুড়ে যাওয়া বস্তির এখন কী অবস্থা। ক্ষতিগ্রস্থরা কোথায় কী করছে, এসব দেখছি।’
পরিবার নিয়ে সোলাইমান নামে একজন পল্লবী থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী আর ছেলের দেখার ইচ্ছা ছিল। তাই তাদের নিয়ে আসলাম।
পুড়ে যাওয়া বস্তির আশপাশের বাসাগুলোতে থেকেও অনেকে দেখতে এসেছেন।
আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া শারমিন নামে এক নারী বলেন, ‘সব শ্যাষ হইয়া গেল। এখন মাইনষের পাতে চাওন ছাড়া উপায় নাই। ’
আরেক ভূক্তভোগী নাজমুল হক নামে এক রিকশা চালক জানান, আগুনে বস্তি পুড়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনসহ অনেকে সাহায্য করতে এসেছেন। তবে শৃঙ্খলা না থাকায় কেউ বেশি পাচ্ছেন, কেউ কম পাচ্ছেন, আবার কেউ কিছু পাচ্ছেনই না। বিশেষ করে নারীরা পুরুষের মতো সামনে গিয়ে কিছু আনতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনের রূপনগর আবাসিক এলাকার চলন্তিকা মোড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ২৪ টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় পুরো বস্তিই আগুনে পুড়ে যায়।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ