সর্বশেষ :

চসিক নির্বাচনে কোমর বেঁধে নামবে বিএনপি

নিউজবক্স ডেক্স ০১:২৫, ৬ মার্চ ২০২০

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কোমর বেঁধে নামার বার্তা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। কেন্দ্রে শক্তিশালী এজেন্ট দেওয়া, ভোটের দিন কেন্দ্রের সামনে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি নেতাকর্মীর সমাগম ঘটানো, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করার বদলে নিজেরাই সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর একটি কনভেনশন হলে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে মহানগর বিএনপির বর্ধিত সভা হয়েছে। সভায় বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্যে বিএনপির নির্বাচনী কৌশল পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অতীতে মেয়র পদে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলাম। সেটা একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল। একধরনের কৌশল ও নির্বচনী ম্যানেজমেন্টে আমরা জিতেছিলাম। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে গেছে। এই নতুন প্রেক্ষাপটে আমাদের নতুন করে চিন্তা করতে হবে। নতুন চিন্তা নিয়েই আমরা নামব।’
ভোটকেন্দ্রে শক্তিশালী এজেন্ট দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের দিন ৫০০ টাকা দিয়ে এজেন্ট ঠিক করবেন, তা হবে না। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে শক্তিশালী এজেন্ট রাখতে হবে। মেয়র, কাউন্সিলর সবার জন্য একটি কমিটি হবে। কিন্তু এজেন্ট হবে আলাদা আলাদা। সাহসিকতার সাথে নির্বাচন করতে হবে।’
আওয়ামী লীগ নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ না দিয়ে এখন থেকে প্রতিরোধ করা হবে বলেও জানান আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শতভাগ নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেছে। বিএনপি শতভাগ বিধি মেনে নির্বাচন করেছে। চট্টগ্রামের নির্বাচনে যদি তারা কোন নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করে সেজন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনে কোন বিচার নাই। ওখানে শুধু দরখাস্ত দেবেন। দরখাস্তের পর দরখাস্ত দেবেন। কিন্তু কোনো বিচার নেই। আমাদের সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে। যেখানে আপনি বিচার পাবেন না, সেখানে আপনার সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হবে। যেহেতু বিচার নাই, সেহেতু কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে।’
ভোটকেন্দ্রের সামনে কমপক্ষে ১০০ জন জড়ো থাকার নির্দেশ দিয়ে খসরু বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের সামনে সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। ওখানে (আওয়ামী লীগ) কতোজন জড়ো হয়েছে, সেটাতে ভাবার কিছু নাই। আমাদের ১০০ জন জড়ো করতে হবে। পারলে তাদের চেয়ে বেশি জড়ো করতে হবে। বিএনপি ডাক দিলেই কিন্তু আসবে। জনগণ আমাদের সঙ্গে। মনোবল নিয়ে নির্বাচনে নামতে হবে। বিশাল ভোটে জয়ী হব আমরা। সম্মিলিতভাবে কাজ করে মেয়র কাউন্সিলরদের জয়ী করতে পারব।’
আওয়ামী লীগ পুলিশ, র‌্যাব ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একটি অংশ সক্রিয়ভাবে দলীয় ভূমিকা পালন করছে। বাকীরা পছন্দ করছে না, কিন্তু চাকরির ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। তাদের সব জানা আছে। যাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে তারা যে জানে সেটাতেও তাদের ভয়। সবকিছুতে তারা আতঙ্কের মধ্যে আছে। তাদের এ ভয়টাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে খসরু বলেন, ‘সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে। সবাই একসাথে হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম করতে হবে। যে যত বড় নেতা হোক তাকে কেন্দ্রে যেতে হবে। নিজের কেন্দ্রে গিয়ে প্রার্থীকে জিতিয়ে এনে প্রমাণ করতে হবে আপনি বড় নেতা।’
সভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নগর কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যতো বাধাই আসুক, আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকবো। প্রয়োজনে প্রতিবাদ করবো, তারপরও নির্বাচনের মাঠ ছাড়বো না। তবে নগর বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকারের জলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পাবার পর এক বছরের মাথায় ২১ বছর না হওয়া মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করেছি। ১৪টি থানা ও ৪৩টি ওয়ার্ড কমিটি করেছি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশে আমরা ২টি মহাসমাবেশ, ২টি কর্মীসভা ও ২টি প্রতিনিধি সভা করেছি।’
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, নগর কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিনও বক্তব্য রাখেন।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ