সর্বশেষ :
ছেলেধরা সন্দেহে বাড্ডায় রেনুকে হত্যা

চার মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত, মামলা ডিবিতে

অনলাইন ডেস্ক ০৮:২৩, ২৪ নভেম্বর ২০১৯

ছেলেধরা সন্দেহে রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ঐ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ১৪ জনের মধ্যে তিন জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও থেকে আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। এই ১৪ জনের বাইরে আরো পাঁচ-সাত জন রয়েছে, যারা রেনু বেগমকে নির্মমভাবে পিটিয়েছিল। ভিডিওতে তাদের ছবি অস্পষ্ট হওয়ায় পুলিশ তাদের শনাক্ত করতে পারেনি। নিহতের ভাগনে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করা হয়েছে ৩০০-৪০০ জন।

বাদী অভিযোগ করেছেন, ঐ ঘটনার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েক জন শিক্ষক-কর্মচারী জড়িত। তারা রেনু বেগমকে ছেলেধরার গুজব থেকে রক্ষা করতে পারেনি। প্রকাশ্যে দিনের আলোতে একটি সরকারি স্কুলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটলেও ঐ স্কুলের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে, দুই সপ্তাহ আগে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করে পুলিশ।

গত ২০ জুলাই সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই সন্তানকে ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের গেটে কয়েক জন নারী তাসলিমা বেগম রেনুর নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে কয়েক শ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে বাইরে নিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। ঐ বর্বর ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐ ঘটনার পর হূদয় (২০), ওয়াসিম (১৪), জাফর পাটোয়ারি, রিয়া, শাহীন (৩১), বাচ্চু মিয়া (২৮), বাপ্পী (২১), কামাল হোসেন (৩৮), আবুল কালাম আজাদ (৪০), মুরাদ (২২), সোহেল রানা (৩০), বিল্লাল হোসেন (২৮), আসাদুল ইসলাম (২২) ও রাজু আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে হূদয়সহ তিন জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে জবানবন্দিতে মো. ইব্রাহিম ওরফে হূদয় বলেছে যে, পদ্মা সেতু নির্মাণে শিশুদের কাটা মাথা লাগবে। এজন্য সারা দেশের স্কুলে ছেলেধরা ঘোরাফেরা করছে। সে ঐ গুজব বিশ্বাস করেছিল। ঐদিন সে বাসা থেকে বের হয়ে শুনতে পায় যে, ছেলেধরা সন্দেহে এক নারী ধরা পড়েছে। সবার সঙ্গে সেও ঐ নারীকে মারধর করেছে।

বাড্ডা থানার ওসি আরো বলেন, যেসব আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি তাদের ধরার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চলছে। তাদের ধরতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা জবানবন্দি দিয়েছে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষের দিকে। মামলার বেশ কিছু দিক পর্যালোচনা করার জন্য তদন্তভার ডিবিতে দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঐ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে কয়েক জনের চেহারা শনাক্ত হয়েছে। পুলিশ তাদের চিহ্নিত করার জন্য বাড্ডা এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু, কেউ তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ