সর্বশেষ :

ছেলে জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিচার দাবি করি: ইফতির বাবা

অনলাইন ডেস্ক: ০৩:১৫, ১২ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার ৫নং আসামি রাজবাড়ীর ইফতি মোশাররফ সকালের (২১) বাবা ফকির মোশাররফ হোসেন আববার হত্যার বিচার চেয়েছেন।

ইফতির বাবা বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট যে কত নির্মম আমি একজন বাবা হয়ে অনুভব করি। আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত থাকলে আমি অবশ্যই তার বিচার দাবি করি।

ইফতি রাজবাড়ী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ধুঞ্চি গ্রামের ২৮ কলোনী এলাকার ফকির মোশাররফ হোসনের ছেলে।

আলোচিত আবরার হত্যার ঘটনায় ইফতি জড়িত থাকলেও বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও ইফতির স্বজনরা। আবরার হত্যার মামলায় ইফতিকে আসামি করা হয়েছে।

ইফতির পড়ালেখা করেছেন রাজবাড়ী গোদার বাজার এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। তার শিক্ষকদের কাছেও ইফতি ভদ্র ও মেধাবী ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ইফতির পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইফতি মোশাররফ সকাল দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

ইফতির ছোট ভাই রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী।

ইফতি রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এরপর ভর্তি হন ঢাকার নটরডেম কলেজে। এরপর সেখান থেকে ভর্তি হন বুয়েটে।

বুয়েটে ভর্তির পর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। কমিটিতে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখায় উপ সমাজসেবা সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।

ইফতির এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশী নাছিমা বেগম বলেন, ইফতি বাড়িতে থাকাকালীন সব সময় পড়াশোনা নিয়ে থাকতেন। কখনো কারো সঙ্গে মাথা উচু করে বা উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়নি তাকে। বিতর্ক, গণিত অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার মতো কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এসবে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে বেশকিছু পুরস্কারও পেয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্ত হলে তাদের আশা ইফতি নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

ইফতির বাবা ফকির মোশাররফ হোসেন বলেন, বিশ বছর আগে আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। সেসময় রাজবাড়ী জেলা পৌর বিএনপির ১নং ওয়ার্ডের যুগ্ন সম্পাদক হিসাবে অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছিলাম। কিন্তু আমার ছেলে ইফতি মোশাররফ সকাল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

পরবর্তীতে বুয়েটে গিয়ে ছাত্র লীগের সঙ্গে জড়িত হয়। নটরডেম কলেজে ভর্তির সময় তাকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ইফতি মোশাররফ সকাল উত্তর দেয় এদেশের রাজনীতি স্বচ্ছ না।

গোদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিনা পারভীন জানান, ১০/১২ বছর আগে যখন আমার স্কুলে লেখাপড়া করত তখন ইফতি বিনয়ী ও ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। তার মত ভালো ছেলে পাওয়া খুব কঠিন।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদ্দুত কুমার দাস জানান, ইফতি যখন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তো, তখন থেকে তিনি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে আছেন। তাই ইফতিকে ভালোভাবে চেনেন। আসলে ইফতি ভালো ছেলে। ওর মধ্যে কখনও খারাপ কিছু দেখেননি। কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে এমন কথাও শোনেননি। এছাড়া ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।

রাজবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম সফি জানান, ইফতি মোশাররফ সকালের বাবা ফকির মোশাররফ হোসেন বিএনপির রাজনীতি করে। কীভাবে ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার উপ-সমাজসেবা সম্পাদক পদ পেয়েছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কীভাবে পদ দিয়েছে সেটা আশ্চার্যের ব্যাপার। আবরার হত্যার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের শনাক্ত করে সর্বচ্চো শাস্তি দাবি করেন তিনি।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, ইফতি মোশাররফ সকালের নামে রাজবাড়ী সদর থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। এলাকাতেও তার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের কোন অভিযোগ পাইনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে মহানগর হাকিম খন্দকার ইয়াসির আহসান চৌধুরীর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইফতি মোশাররফ সকাল।

ইফতি আদালতকে বলেন, ওই কক্ষে তখন ক্রিকেটের কোনো স্টাম্প ছিল না। বাইরে থেকে তখন কেউ একজন স্টাম্প নিয়ে আসেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামসুল আরেফিন ওরফে রাফাত স্টাম্প এনে তার হাতে দেন। আবরারের কাছ থেকে কথা বের করার জন্য স্টাম্প দিয়ে চার-পাঁচটি আঘাত করেন ইফতি। এতে স্টাম্পটি ভেঙে যায়।

ইফতি আদালতকে আরও বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ক্যান্টিনে খেতে যান। মিনিট বিশেক পর ফিরে এসে দেখেন, আবরার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি মেঝেতে শুয়ে আছেন। তিনি তখন আবরারকে ধমক দিয়ে উঠে দাঁড় করান। কয়েকটি চড় মারেন।

প্রসঙ্গত ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে পর দিন রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ