জাতীয় পার্টিতে বিরোধীদলের নেতার পদকে ঘিরে রশি টানাটানি

নিউজবক্স ডেক্স ১০:৪১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টিতে বিরোধীদলের নেতার পদকে ঘিরে আবারো শুরু হয়েছে রশি টানাটানি। এ নিয়ে দলের ভিতরে বিদ্রোহ এখন তুঙ্গে। রয়েছে দল ভাঙ্গার আশঙ্কা। বিশেষ করে মঙ্গলবার বিকেলে পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে বিরোধীদলের নেতা বানানোর জন্য সংসদের স্পিকার বরারব চিঠি দেয়ার পর নড়েচড়ে বসেছেন রওশন পন্থীরা। আগামি বৃহস্পতিবার গুলশানের নিজ বাসভবনে জরুরী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন রওশন এরশাদ।

অপরদিকে স্পিকার বরাবর জি এম কাদেরের দেয়া চিঠি গঠনতন্ত্র সম্মত নয় বলে বুধবার বিকেলে স্পিকার বরাবর পাল্টা চিঠিও দিয়েছেন তিনি। স্পিকার বরাবর রওশনের চিঠি পৌঁছে দেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি।

এদিকে মঙ্গলবার জি এম কাদেরের পক্ষে পার্টির ১৫ জন এমপি স্বাক্ষরিত চিঠিটি স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি। এসময় জাপার সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নাজমা আকতার, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, আদেলুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন এমপি উপস্থিত ছিলেন। ওই চিঠিতে এমপিরা ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া টিপু, নুরুল ইসলাম তালুকদার, সালমা ইসলাম ও পনির উদ্দিন আহমেদসহ আরো কয়েকজন।

চিঠির খবর রওশন এরশাদের কাছে পৌঁছলে তিনি দলীয় এমপিদের সন্ধ্যায় নিজ বাসায় ডাকেন। তবে মাত্র চারজন এমপি উপস্থিত হন সেখানে। বুধবার দুপুরেও নিজ অনুসারীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন রওশন। এদিনও চারজন এমপি উপস্থিত ছিলেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, পার্টির সংসদীয় কোনো সভা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। ম্যাডাম (রওশন) আগামী সংসদে আমাদের সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন। সেখানেই আমরা বিরোধীদলের নেতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দফা অনেককে ফোন করেও কাছে পাননি রওশন এরশাদ। তবে এ মুহুর্তে তার সমর্থনে রয়েছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মজিবুল হক চুন্নু ও ফখরুল ইমামসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

এদিকে নতুন করে জাপায় নেতৃত্ব নিয়ে পারিবারিক বিভেদে অস্থিরতায় ভুগছে পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই পার্টিতে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের দ্বন্দ্ব অনেকটাই স্পষ্ট। এরমধ্যে একাধিকবার রওশন ও কাদের গুলশানে রওশনের বাসভবনে একান্তে কথা বলেন। কিন্তু কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি তারা।

এ বিষয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, পার্টির সব নেতাকর্মীই চান পার্টির দ্বায়ীত্বের পাশাপাশি বিরোধীদলের নেতাও হোক জি এম কাদের। তার সঙ্গে পার্টির তৃণমূলের যে সম্পর্ক রয়েছে তাতে তিনি বিরোধীদলের নেতা হলে দল উপকৃত হবে। পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য এ টি ইউ তাজ রহমান বলেন, পার্টিতে পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা বিভেদ কাম্য নয়। যত দ্রুত সম্ভব তা মিটিয়ে ফেলা উচিত। এতে পার্টি, নেতাকর্মী ও দেশ উপকৃত হবে।

সার্বিক বিষয়ে পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা মনোনয়ন প্রশ্নে জোর করে কিছু করা হয়নি। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চিঠি দেয়া হয়েছে। পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক না করায় বিতর্ক উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব যখন বেঁচে ছিলেন তিনিও কিন্তু এভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন, আমাকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করেছিলেন। পরে আমাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে উপনেতা করা হয়। তখনও কিন্তু পার্লামেন্টারি পার্টির কোনো মিটিং করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ফোনে সংসদ সদস্যদের জিজ্ঞেস করেছি। তারা সম্মতি দিয়েছে। লিখিত দিতে বলা হলে ১৫ জন সম্মতিপত্র দিয়েছে। ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জন সম্মতি দিলে আর কিছু লাগে না। তাই অন্যদেরকে বলা হয়নি। এখন আরো অনেকে দিতে চাচ্ছে। প্রয়োজন নেই বলে নেয়া হচ্ছে না।

রওশন এরশাদ আগামী সংসদে সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, অন্য কেউ পার্লামেন্টারি পার্টির সভা ডাকতে পারে না, ডাকতে হলে আমিই ডাকবো।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ