সর্বশেষ :

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ-প্রধানমন্ত্রী

নিউজবক্স ডেক্স ১২:৪১, ১ জুন ২০১৯

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সসম্মানে প্রত্যাবাসনসহ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনকে (ওআইসি) এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও দেশের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইনে তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার রাখাইন অঞ্চলে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন এখনও অনিশ্চিত।
শনিবার সৌদি আরবের মক্কার সাফা প্যালেসে ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে ভাষণে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সরকার প্রধান এবং প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এ সম্মেলনের শুরুতেই বক্তব্য দেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। সংস্থার মহাসচিবের বক্তব্যের পর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে ওআইসির এশিয়া গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে দেয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে নিপীড়িত হওয়া এবং তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
গত মার্চে আবুধাবিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং জবাবদিহি ও বিচার সম্পর্কিত প্রশ্নের বিষয়টি সামনে আনার লক্ষ্যে এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাওয়ার একটি পথ নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।
এ প্রক্রিয়াকে এতদূর নিয়ে আসার জন্য গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় তহবিল ও কারিগরি সহায়তার দিয়ে মামলাটি চালু করার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আছে আবেদন করছি।
এর আগে, ওআইসির ১৪তম সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার বিকেলে সৌদি আরব পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট (বিজি-১৫১২) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী চার দিনের জাপান সফর শেষে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে টোকিও হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তোশিকো আবে ও জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাবা ফাতিমা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজ (১ জুন) মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করার কথা রয়েছে। ২ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠের উদ্দেশে জেদ্দা থেকে বিমানযোগে মদিনা রওনা হবেন। সন্ধ্যায় তিনি বিমানযোগে মদিনা থেকে জেদ্দা যাবেন।
৩ জুন প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের হেলসিংকির উদ্দেশে সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১টা ১০ মিনিটে জেদ্দা ত্যাগ করবেন। তিনি ওইদিন বেলা ১টায় (ফিনল্যান্ড সময়) হেলসিংকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ২৮ থেকে ৩১ মে জাপান অবস্থানকালে দু’দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলারের (চার প্রকল্পের জন্য) একটি সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করেন। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে ২৫তম নিক্কেই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সৌদি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানা ছাড়াও রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী ত্রিদেশীয় সফরের উদ্দেশে গত ২৮ মে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার প্রথম গন্তব্য ছিল জাপান। পরের গন্তব্য সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড। ১২ দিনের সফর শেষে আগামী ৮ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ