সর্বশেষ :

ডায়েরিতে লেখা – ‘খুন করলাম ছেলেমেয়েকে, আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে’

নিউজবক্স ডেক্স ০২:১৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার আলোচিত দুই শিশু সন্তানসহ মুন্নি রহমান খুনের ঘটনায় পুলিশ এখনো আসামি খুঁজে বেড়াচ্ছে। গত শুক্রবার মৃতদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ডায়েরি উদ্ধার করে। এতে লেখা- ‘খুন করলাম ছেলেমেয়েকে, আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে’। পুলিশের ধারণা, লেখাটি মুন্নি রহমানের স্বামী রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া লিটনের। তিনি পেশায় বিটিসিএলের উপসহকারী প্রকৌশলী।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বড় একটি ঋণের বোঝায় পড়েছেন। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন দীর্ঘদিন। যার কারণে তার পরিবারে ছিল অশান্তি। এ কারণেই হয়তো দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা করেছেন এমন সন্দেহ করছে পুলিশ ও তার স্বজনরা।
গত শুক্রবার প্রেমবাগান এলাকার পাঁচতলা বাড়ির চারতলার একটি ফ্ল্যাটে মা মা মুন্নি, ১২ বছরের ছেলে ফারহান উদ্দিন ভূঁইয়া ও তিন বছরের মেয়ে লাইবার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তিন থেকে চারদিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। মুন্নির মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মৃতদেহের পাশে একটি হাতুড়ি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, তার সুই শিশুর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুন্নির ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে গতকাল শনিবার দক্ষিণখান থানায় মামলা করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে ঠিক কতজন জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে মা ও দুই সন্তানের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কেএম মইন উদ্দিন বলেন, নিহত মুন্নির মাথায় পাঁচটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আঘাতগুলো হাতুড়ির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলে ফারহানের গলায় চিকন ফিতা পাওয়া গেছে। হয়তো তাকে এই ফিতা দিয়েই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া মেয়েটির গলায় আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।
২০১১ সালে দক্ষিণ খানের এই বাড়িটিতে ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করেন মুন্নি-লিটন দম্পতি। লিটন উত্তরা বিটিসিএলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
বিটিসিএলের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে লিটনকে গুলশান থেকে উত্তরা বিটিসিএলে বদলি হয়েছে। নতুন অফিসে যোগদান করেছে কি না সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তবে পুলিশ এ অফিসে এসে তার খোঁজ করে গেছে।
মুন্নির মামাত ভাই তানভীর রহমান বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে পারেননি লিটন। এই টাকা তিনি কোন কাজে ব্যয় করেছেন তা কেউ জানে না। তাদের পরিবারে বেশ সুখ ছিল। কিন্তু ঋণগ্রস্ত হবার পর অশান্তি বেড়ে যায়। মুন্নি এসব বিষয়ে আত্মীয়-স্বজনকে কিছু জানাতেন না। তাই সঠিক বলা যাচ্ছে না ঋণের পরিমাণ কত, তবে টাকার অংক অনেক বিশাল। অভাবের কারণে ছেলে ফারহানকে এ বছর তারা পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করাতে পারেননি। ঋণের কারণে চার মাস নিখোঁজ হয়েছিলেন লিটন। পরে কুমিল্লার বুড়িচং এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে স্বজনরা। প্রতিবেশী কারো কারো মতে তিনি জুয়া খেলতেন। এ কারণেই তিনি ঋণগ্রস্ত হয়েছেন।
মুন্নির আরেক খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম সাকিব বলেন, গত মঙ্গলবার ফোনে তার সঙ্গে মুন্নির কথা হয়। পরদিন বুধবার সকালে তাকে স্বজনরা একাধিকবার ফোন করলেও সে রিসিভ করেনি। এক পর্যায়ে রিং হতে হতে মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। অইদিন বিকেলে খালা হাসিনা ও খালাত বোন সোনিয়া মুন্নিদের ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা বন্ধ পান। তারা ভেবেছিলেন কোথাও হয়তো ঘুরতে গেছে সে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মুন্নি ও লিটন দুইজনের মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ শুরু হয়। এরপরেই সেখানে ছুটে যান স্বজনরা।
প্রতিবেশীরা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই দুর্গন্ধ আসা শুরু হয়। গন্ধের উৎস খুঁজতে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা দরজা দিয়ে উঁকি দেন। পরে মুন্নির স্বজনরা এলে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটে মা ও মেয়ে এবং পাশের ঘরের দরজার পাশে মেঝেতে ছেলের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে আঁতকে ওঠেন সবাই। খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহত মুন্নি রহমানের স্বামী রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া লিটন জড়িত। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ