সর্বশেষ :

দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা

আতিকুর হাসান সজীব ০৮:২৬, ৭ আগস্ট ২০১৯

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়া আদমদীঘি উপজেলার কামার শিল্পীরা।দিন-রাত সমান তালে তারা এখন হাঁসুয়া, ছুরি, দা, চাকু, বটি ও কাটারি তৈরি এবং শান দেয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে সময় পার করছেন। কুরবানি ঈদ যতই ঘুনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কামার ও ক্রেতারা। ক্রেতারা তাদের পছন্দের হাঁসুয়া, ছুরি, দা, চাকু, বটি, ও কাটারি,
কেনার  জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে বিগত সময়ের তুলনায় এসব সরঞ্জামাদির দাম একটু বেড়ে গেলেও ক্রেতারা তা হাসিমুখে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদী ক্রয় করছেন।উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। কামারের দোকানে শোনা যাচ্ছে ‘টুং-টুং শব্দ। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত লোহা পিটিয়ে টুং টুং শব্দে চলছে হাঁসুয়া, ছুরি, দা, চাকু, বটি, কুড়াল ও কাটারি এসব ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ। অনেকের হাতে বেশি অর্ডার থাকায় নতুন কোনো অর্ডার নিচ্ছেন না তারা।সারা বছর কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদের এ সময়টা বারবারই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতে লোকজন ভিড় করছেন তাদের দোকানে।
দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু জবাইয়ের উপকরণ।

প্রতি বছর কুরবানির ঈদ উপলক্ষে হাঁসুয়া, ছুরি, দা, চাকু, বটি, কুড়াল ও কাটারির ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায়।মঙ্গলবার সরজমিনে উপজেলার আদমদীঘির হাট, সান্তাহার রাধাকান্ত হাট, ছাতিয়ানগ্রাম, নশরতপুর, চাঁপাপুর, কুন্দগ্রাম ও আদমদীঘির পার্শবর্তী পারইল হাটে গিয়ে দেখা যায় কামারা কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন এসব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরির কাজ।

কামাররা জানায়, এ পেশায় অধিক শ্রম জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে তারা এখনও আঁকড়ে ধরে আছেন। বিভিন্ন সময় এসবের চাহিদা কম থাকলেও কুরবানির পশুর জন্য বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই এখন ছুটছেন কামারদের কাছে। আর এতেই এক মাসে পেশাটি জমজমাট হয়ে উঠেছে। কামাররা এই ঈদ মওসুম ছাড়া কাস্তে, হাঁসুয়া, পাসুন, বাঁশিলা, কুড়ালও তৈরি করে থাকেন।

উপজেলার সাধন মোহন্ত কর্মকার, সান্তাহার হাটের শ্রী গনেশ কর্মকার ও পারইল বাজারের উকিল কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে, কুরবানি এলে কাজ বেড়ে যায়।বর্তমানে ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় ছুরিতে শান দেয়ার জন্য ৩০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে ৪০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি দা বিক্রি হচ্ছে ৩০০, হাঁসুয়া ১৫০, ছোট ছুরি ৫০, বটি ২০০, কাটারি ২৫০-৩০০ টাকা করে।

আদমদীঘি বাজারে পশু জবাইয়ের ছুরি কিনতে আসা কাশিমালা গ্রামের আব্দুল মজিদ, রফিকুল, আলিমুদ্দীনসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, কুরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা। লোহার পাশাপাশি এদিকে স্টিলের ছুরি চাকুও লোকজনকে আকৃষ্ট করে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ