দুই দশক পর দৈনিক বাংলার ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করার উদ্যোগ

নিউজবক্সবিডি ডেক্স ০৮:৩৮, ৯ এপ্রিল ২০১৯

দুই দশক পর টাইমস-বাংলা ট্রাস্টের নামে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর আগে এ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করার জন্য কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ে কমিটিও গঠিত হয়। কিন্তু ঋণ পরিশোধ করার জন্য গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত আলোর মুখ দেখেনি। চারটি ব্যাংক ঋণের বোঝা বহন করে চলেছে এ ট্রাস্ট। সম্প্রতি ট্রাস্টের জমিতে ২৫ তলাবিশিষ্ট ‘ব্যাংক ভবন’ নির্মাণের উদ্যোগ নিলে পুরাতন ঋণ পরিশোধের বিষয়টি সামনে আসে। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সম্প্রতি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিডিবিএলের কাছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭ হাজার টাকা, জনতা ব্যাংকে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং রূপালী ব্যাংকের কাছে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে বাংলা-টাইমসের। এসব পাওনা নিষ্পত্তির ব্যাপারে আলোচনা হয় বৈঠকে। অধুনালুপ্ত টাইমস-বাংলা ট্রাস্টের দৈনিক বাংলা মোড়ের পাশে অবস্থানরত ৩৯ দশমিক ২৪ শতাংশ জমিসহ ভবন বর্তমান কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক এ জমিতে ২৫ তলাবিশিষ্ট ব্যাংক ভবন হবে। এ ভবনের ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান কার্যালয় হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে কয়েক দফা বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে গত ২০১৬ সালের ১৯ জুন একটি কমিটি গঠিত হয়। বৈঠকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, ওই কমিটি এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
টাইমস-বাংলার ভবনে এখনো যেসব মেশিন ও যন্ত্রপাতি রয়েছে তা তালিকা করে বিক্রি করার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কোনো প্রেস বা নমুনা সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হলে তা নির্মিতব্য ‘তথ্য ভবনে’ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অধুনালুপ্ত সাবেক টাইমস-ট্রাস্ট ভবনে এখনো যেসব প্রেস ও মেশিনপত্র আছে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া জন্য মেশিনপত্রের বিস্তারিত তালিকা তথ্য মন্ত্রণালয়ের করা প্রয়োজন বলে মত দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে টাইমস-বাংলা ট্রাস্টের দৈনিক বাংলা, দ্য বাংলাদেশ টাইমস ও সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকা সরকার বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে অনাদায়ী রয়ে গেছে ব্যাংকের ঋণ। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুরনো এ ঋণ পরিশোধের জন্য বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগের খোঁজখবর নেওয়া হয়। দৈনিক বাংলা, দ্য বাংলাদেশ টাইস ও বিচিত্রার দায়দেনা পরিশোধের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য অধুনালুপ্ত টাইমস-বাংলা ট্রাস্ট ভবনে অবস্থিত কর্মসংস্থান ব্যাংককেও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ