সর্বশেষ :

দুর্নীতি বা নয়-ছয় করলে আমি কিন্তু কাউকে ছাড় দেব না-প্রধানমন্ত্রী

নিউজবক্স ডেক্স ০২:৫৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঢাকা সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি চাই কোথাও যেন কোনোরকম দুর্নীতি-অনিয়ম না হয়। যদি এ ধরনের কিছু হয়; সে যে-ই হোক, আমি কিন্তু কাউকে ছাড় দেব না। কেউ যদি কোনোরকম দুর্নীতি বা নয়-ছয় করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পিতবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ শেষে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলামকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দুই সিটি করপোরেশনের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের শপথ পড়ান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
শপথ শেষে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণ করে একেবারে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। তারা শক্তিশালী হয়ে যেন নিজেদের এলাকার বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প নিজেরাই নিতে পারে। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিনরাত আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের উন্নয়নে কাজ করি। উন্নয়ন প্রকল্পে আমরা বাজেট দেই। বহুদলীয় গণতন্ত্র আছে। কেউ হয়তো ভোট দিয়েছে, কেউ হয়তো দেয় নাই। কিন্তু আপনি যখন নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন, তখন আপনাকে ওটা বিবেচনা করা যাবে না। আপনাকে বিবেচনা করতে হবে, সব নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য। এটাই হচ্ছে রাজনীতির নিয়ম। আপনি যখন নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তখন আপনি সকলের। সেই কথাটা মাথায় রেখেই সার্বিক উন্নয়নের জন্য আপনাদের কাজ করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা কিন্তু অনেক প্রজেক্ট করে দিচ্ছি। অনেক কাজ করে দিয়েছি। সেগুলো যাতে যথাযথভাবে হয় সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন। এই দশ বছরে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাঝে-মধ্যে এক একটা ঝড় আসে। এখন যেমন করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে। এর থেকে কীভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখা যায়, সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। করোনাভাইরাস এখনও আমাদের দেশে আসে নাই। কিন্তু এরকম যদি দেখা হয়? সেজন্য আমরা একটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল করতে যাচ্ছি। সেখানে আমাদের নার্স, ডাক্তার বা যারা সার্ভিস দেবে তাদের জন্য ট্রেনিং, পোশাক পরিচ্ছদ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা আমরা করছি। এরই মধ্যে এটা নিয়ে আামদের আলোচনা হয়েছে।’
গত বছর ডেঙ্গু মশার প্রকোপ বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর পরে আরেকটা সমস্যা আসছে। এটা এর আগেও ছিল। যেমন ডেঙ্গু নিয়ে সমস্যা। এখন থেকেই এই মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে সবাইকে। সেদিকেও আপনাদের দৃষ্টি দিতে হবে। মশা আপনার ভোট যেন খেয়ে না ফেলে সেটা নিশ্চয়ই আপনাকে দেখতে হবে। মশা ক্ষুদ্র হলেও অনেক শক্তিশালী, এটা মাথায় রাখতে হবে।’
দেশের সার্বিক উন্নয়নে জনগণের আস্থা বিশ্বাস ও অর্জন করা নির্বাচিত প্রতিনিধির জীবনে সবচেয় বেশি প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই সেই আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেই আপনারা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন।’
রাজধানীতে বড় বড় প্রকল্প ও উন্নয়ন কাজ চলছে- সেদিকটা তুলে ধরে সেগুলো যেন যথাযথভাবে যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা যায়, সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, সময় খুব কম। আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হই। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যে কাজগুলো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই কাজগুলো আমি শেষ করতে চাই। আর সেক্ষেত্রে কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা কোনোরকম দুর্নীতি করে বা কোনোরকম নয়-ছয় করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা কিন্তু নেওয়া হবে।’
‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। এই অভিযান চলতেই থাকবে। কাজেই সেখানেও আপনাদের সহযোগিতা চাই। সমাজের এই ক্ষতগুলো থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। এই ক্ষতগুলোর জন্যই ভবিষ্যত প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাদের এই ক্ষতি থেকে উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নের কাজেই আমরা লাগাতে চাই।’
নব-নির্বাচিত মেয়রসহ কাউন্সিলরদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তারা যে শপথ নিয়েছেন সেই অনুযায়ী চলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি মুজিববর্ষ উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকার দুই সিটি মেয়র ও কাউন্সিরদের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সারাদেশের নির্বাচিত জনপ্রিতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা আছে, তারা কে কী অবস্থায় আছে; তা জানাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা মানবেতর জীবন যাপন করবে, দুরাবস্থায় থাকবে, দারিদ্র্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হবে- সেটা আমি দেখতে চাই না।’
অনুষ্ঠানে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ