ধারালো ছুরি দিয়ে মনিরের গলা ও পরে দুইটা হাতও কেটে ফেলে মসজিদের ইমাম হাদির

০৫:০৬, ১০ এপ্রিল ২০১৯

আট বছরের শিশু মনিরের প্রথমে দুই পা বাধেন, এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে বাচ্চাটির গলা ও পরে দুইটা হাতও কেটে ফেলেন। এরপর মরদেহ বস্তাবন্দি করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিতের পরও শিশুটির দুটি হাত কাটেন রাজধানীর ডেমরার ডগাইর নতুনপাড়ার নুর-ই-আয়েশা জামে মসজিদের ইমাম হাদির। এভাবে নিজেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে শিশুটিকে হত্যার নৃশংস ওই বর্ণনা দিয়েছেন।

শিশু মনির মসজিদে গিয়েছিল ইমাম হাদিরের মক্তবে পড়তে। কিন্তু ওই হুজুরই (শিক্ষক) মুক্তিপণের লোভে তাকে আটকে গলাকেটে হত্যা করেন।  এরপর বস্তাভর্তি করে লুকিয়ে রাখেন মসজিদের সিঁড়ির নিচে।

নিহত মনিরের বাসা রাজধানীর ডেমরার ডগাইর এলাকায়। বাবা সাইদুল হক ও মা কল্পনা বেগম। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল।
রোববার সকালে মনিরকে আটকে রেখে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন হাদির। শিশুটির পরিবার এক লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধও করেছিলো। কিন্তু পুরো টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ওইদিনই শিশুটিকে হত্যা করেন তিনি। সারারাত বস্তাবন্দি মরদেহ লুকিয়ে রেখেছিলেন। পরদিন সোমবার সকালে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়েন ইমাম হাদির। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে আটক ও মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইমাম হাদিরের স্ত্রী, মাদ্রাসার এক নারী শিক্ষকসহ আরও চারজনকেও আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু মনির হোসেনের চাচা মাহবুবুর রহমান জানান,  প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন মনির সকাল সাতটায় মসজিদের মক্তবে ইমাম হাদিরের কাছে কুরআন পড়তে গিয়েছিল।  সব শিশুই ছুটির পর মক্তব থেকে বাসায় চলে গেলেও মনির ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির মধ্যে বিকালে একটি ফোন আসে পরিবারের কাছে। ফোনের অন্য প্রান্তথেকে কে যেন বলেন, ‘বাচ্চা চাইলে তিন লাখ টাকা সন্ধ্যার মধ্যে যদি মসজিদের খাটিয়ার মধ্যে রেখে না যাও, তাহলে সকালে ছেলের লাশ পাবে।’
মনিরের বাবা-মা কোনোমতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে ঠিক মসজিদের খাটিয়ার ওপর রেখে আসেন।

টাকা দেয়ার পরও দিন পার হয়ে রাত, পরদিন সকালেও তাদের মনির বাসায় ফিরে আসেনি।

ইতিমধ্যে এলাকায় মনিরের হারানো ও মুক্তিপানের টাকা দেওয়ার কথা জানাজানি হলে সবার সন্দেহ হয় হুজুরের (ইমাম হাদির) ওপর। সময় সাথে সাথে সন্দেহও বাড়তে থাকে এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসীরা জানান, দুপুরে ডেমরা থানা পুলিশকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানানো হয়। তারা এসে হুজুরকে ধমক দিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি ভয় পেয়ে আদায় করা টাকাসহ দৌঁড় দেন। এরপর জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ডেমরা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে হাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, শিশুটি তার কাছে। আরও জোরালো চাপ দেওয়া হলে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি জানান, শিশুটি মসজিদের তৃতীয়তলার সিঁড়ির নিচে বস্তাবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সবাই গিয়ে দ্রুত উদ্ধার করলেও মনির আর বেঁচে ছিলো না।
এবিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শুধু কি টাকার জন্যই খুন করেছেন, নাকি অন্য কোনো বিষয় রয়েছে, তা মামলার তদন্তে বের হয়ে আসবে।’

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ