সর্বশেষ :

নওগাঁয় উন্মুক্ত জলাশয় দখলের মহাউৎসব, গরীব মৎসচাষীরা অসহায়

ইউনুস আলী ফাইম ১১:৪৭, ৩১ আগস্ট ২০১৯

নওগাঁর সদর উপজেলার কিসমত ভবানী নগর এবং মান্দা থানার কশব গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কশব বিলে বাঁশের বেতি দিয়ে বানানো হয় বানা। সেই বিশাল আকারের বানা অনেকটা নিখুঁতভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বিলের পানিতে। বানাকে শক্তভাবে বেঁধে দিতে পুরো বাঁশকে খুঁটি বানিয়ে প্রায় ৭০বিঘা এলাকা জুড়ে চারদিকে পানিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। বানার ওপর দিয়ে বিশেষভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে কারেন্ট জাল। সেখানে পাহারা দেওয়ার জন্য বানানো হয়েছে ছোট্র ঘর পাহারার কাজে। আর এভাবে বিলের উন্মুক্ত জলাশয় দখলে নিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বিলের উন্মুক্ত জলাশয় দখল নিয়ে মাছ চাষ করায় দেশিয় প্রজাতির মাছের বংশ বিস্তার হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বিলের পানিতে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন না এলাকার সাধারণ মানুষজন। বিলে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করায় তাদের উন্মুক্ত এই বিলের জলাশয়ে নামতে দেওয়া হচ্ছে না স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ফলে তারা মাছও শিকার করতে পারছেন না। এতে এই বিল থেকে তাদের আয়ের পথ বর্তমানে একেবারে বন্ধ।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবসীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব ), পুলিশ সুপার নওগাঁ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর মধ্যে স্থানীয় মৎস্যজীবী মো.জাকির সাকিনদার বলেন, এই বিলে এলাকার গরীব মৎসজীবীরা মাছ শিকার কওে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় প্রবাভশালী ৬জন উক্ত বিলে বানা দিয়ে জোর পূর্বক বেআইনী ভাবে মাছ চাষ করছেন। তাদের বাঁধা দিতে গেলে নানা ভাবে হুমকি,ধামকী দিয়ে যাচ্ছেন।
আর এক অভিযোগকারী ছেফাত মো.আলী সাকিনদার জানান, যেখানে বানা দিয়ে মাছ চাষ করছে সেখানে আমাদেরও জমি আছে তবে বর্ষা মৌসুম বা যখন পানিতে ভরাট থাকে তখন সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত জলাশয় সেখানে কিভাবে তারা মাছ করে। যদি আমরা মাছ না করতে পারি তাহলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হবে। আমরা এবিষয়ে যথাযথ কৃর্তপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি যাতে এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
বিলে বানা দিয়ে দখলকারী স্থানীয় ৬জনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন, মো.শহিদুল ইসলাম মো. জামরুল ইসলাম,মো.আতোয়ার হোসেন, মো. আজিজার রহমান,মো.রফিকুল ইসলাম এবং মো.কালাম হোসেন।
দখলকারীর মধ্যে মো.জামরুলের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিলের বুকে বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করা অবৈধ-এমন আইন জানা নেই তাদের। আর এ ধরনের আইন থাকলেও জীবিকার তাগিদে কাজটি করা হচ্ছে। এছাড়া মাছ চাষের স্থানে বিলে মানুষজনকে নামতে দিলে মাছের ক্ষতি সাধন হতে পারে। তাই চাষের স্থানের জলাশয়ে কাউকে নামতে দেওয়া হয় না।
বিলের পাশে পানিতে প্রায় ৭০বিঘার মত জমি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এটি বেশ কয়েকজনের জমি তবে মান্দা উপজেলা এবং নওগাঁ সদরের কিছু অংশ নিয়ে এ জলাশয়টি যাদের জায়গা এ জলাশয়ে পরেছে প্রায় সবাইকেই টাকা প্রদান করে লিজ নেয় হয়েছে। তবে যারা অভিয়োগ করেছেন তাদের সামন্য জাগয়া আছে সে জন্য তাদের কিছু টাকা প্রদান করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা রাজি হয়নি।
এ প্রসঙ্গ জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। উন্মুক্ত বিলে দখল করে মাছ চাষ করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। খোঁজখবর নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ