সর্বশেষ :

নওগাঁয় শ্রমিক সংকট ও ধানের নায্যমূল্য না থাকায় কৃষক দিশেহারা

ইউনুস আলী ফাইম ০৬:৩৩, ১০ মে ২০১৯

নওগাঁ জেলা সদর সহ জেলার ১১টি উপজেলার মাঠের পর মাঠ ধান কাটা শ্রমিকের চরম সংকট এর কারনে জমিতেই তীব্র খড়ায় পুড়ছে কৃষক-কৃষানীর সপ্ন পাকা ইরিবোরো ধান। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকের ফলানো ইরিবোরো পাকাধান মাঠের পর মাঠ জমিতেই খড়ায় পুড়ছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলার কৃষক-কৃষানীরা।
ইরিবোরো পাকা ধান ঘড়ে তুলতে অনেক কৃষকরা প্রতিমন ধানের বিপরীতে (অর্থাৎ প্রতি ৪০ কেজিতে ২০ কেজি ) ধান, ধান কাটা শ্রমিকদের দিয়ে জমি থেকে ধান কেটে এনে ঘড়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। তারপর আবার পাওয়া যায় না ধান কাটা শ্রমিক।
আজ শুক্রবার নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মিনহাজুল,মোকলেছার রহমান ও পত্নীতলা উপজেলার জাহিদুল রহমানসহ ১৩/১৪ জন কৃষক ধান কাটা শ্রমিক নেয়ার জন্য নওগাঁর তে-মাথা চৌমাশিয়া নওহাটামোড় বাজারে এসে সকাল থেকে জুম্মার নামাজ পর্যন্ত বসে থেকেও কোন শ্রমিক যোগার পারেননি।

কৃষকরা বলেন, এবার আমরা বহুকষ্টে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো আমাদের পাকা ধান শ্রমিক সংকটের কারনে জমিতেই পেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আরো বলেন, গত বছর ইরিবোরো মৌসুমে ও আমাদের এ বিপদে পড়তে হয়নি। গত বছর যেখানে মাত্র জমি থেকে ধান কেটে বাড়িতে তুলতে প্রতিমন ধানের বিপরিদে অর্থাৎ প্রতি ৪০ কেজিতে ৫কেজি ধান  ধান কাটা শ্রমিকরা নিয়ে আমাদের ধান কেটেছেন। আর মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই একই জমির ধান কেটে ঘড়ে তুলতে প্রতিমন ধানের বিপরীতে অর্থাৎ প্রতি ৪০ কেজিতে ২০ কেজিন ধান  ধান কাটা শ্রমিকদেরই দিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা কৃষকরা।
একই সময় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, একদিকে ধান কাটা শ্রমিকের চরম সংকট অপরদিকে বাজারে ধানের মূল্য নেই জানিয়ে তারা বলেন, শ্রমিক সংকট সমাধান না হলে এবং প্রতিমন ধানের বিপরিদে (অর্থাৎ প্রতি ৪০ কেজিতে ২০ কেজি ) ধান ধান কাটা শ্রমিকদের দিয়ে ধান কেটেনিলে সর্ব নিম্ন প্রতিমন ধানের বিপরিদে শুধুমাত্র আমাদের খরচই পড়বে সাড়ে ৮ শত টাকা থেকে সাড়ে ৯ শত টাকা। একথা জানিয়ে একই সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কৃষকরা বলেন, বর্তমান ধানের হাট-বাজারে আপনারা (সাংবাদিকরা) গিয়ে দেখুন লম্বা জিড়া শাইল প্রতিমন কেনাবেচা হচ্ছে সাড়ে ৫শত টাকা থেকে সাড়ে ৬ শত টাকা, আর ছোট জিড়া সাইল ধান প্রতিমন কেনাবেচা হচ্ছে সাড়ে ৬শত টাকা থকে ৭ শত টাকা পর্যন্ত। এই ধান কাটা শ্রমিক সংকটের সমাধান যদি চলতি সপ্তাহে ও না হয়। সেক্ষেত্রে অনেক মাঠে কষ্টে ফলানো কৃষকদের ইরিবোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে এমন ধারনা পোষন করে সচেতন মহল একই সাথে সাধারন কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে হাট-বাজারে ধানের মূল্য সর্ব নিম্ন প্রতিমন কাটাপেটা অবস্থায় সাড়ে ৮ শত থেকে ৯ শত টাকা দরে বিক্রি যেন হয় বা কৃষকরা বিক্রি করতে পারে এজন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় খাদ্যমন্ত্রীসহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের জরুরী আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ