সর্বশেষ :

পরকিয়া জের আর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন

শফিকুর রহমান ১২:০৩, ২ জুলাই ২০২০

পরকিয়া জের আর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন। সুখের সংসারে আগুন। নিজের প্রান বাচাতে  স্বামী মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আসহায় রিয়া।


জানা যায়, বিবাহের সময় রিয়ার মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাই মনিরকে দামী আসবাবপত্র-দুই ভরি স্বর্ণালংকার উপহার দেয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মনির রিয়ার নিকট  আরও টাকা যৌতুক দাবী করিয়া বিভিন্ন সময় শারিরীক নির্যাতন শুরু করে। রিয়া সংসারের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে বাবার বাড়ী থেকে নগত তিন-লক্ষ টাকা এনে দেয়। টাকা পেয়ে কিছুদিন ভালোভাবে সংসার করলেও পুনরায় মনির দাবীকৃত আরো  টাকা দাবীকরে। গত ১৮/০৬/ ২০২০ইং তারিখ রাতে মনির যৌতুকের টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। রিয়ার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ঘরের দরজা খুলে পালিয়ে যায় মনির। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে রিয়াকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
সুত্র জানায়, মনির হোসেন রাজ নিজেকে মিরপুরের ঐতিহ্যবাহি মোল্লা পরিবারের ভাগিনা পরিচয় দেয়। কিছুদিন পুর্বে মিরপুর-১১, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। পরে খবর পেরে ভুক্তভোগীর আত্মীয় স্বজনরা সেই ডাক্তারে বিচার চেয়ে হাসপাতালের সামনেই মিছিল করে। সেখানে মিরপুরের মোল্লা পরিবারের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীদের ম্যানেজ করে  মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয় মনির। এমনকি সুন্দরী বড়লোকের মেয়েদের বিভিন্ন কৌশলে প্রেমের ফান্দে ফেলেও অর্থ হাতিয়ে নিত।
কিছুদিন পুর্বে রিয়ার পরিবার জানতে পারে মনির হোসেন রাজ তাসমিয়া জাহান ঝিনুক (বীথী) নামের এক মহিলার সাথে পরোকিয়ায় জরিয়েছে। সেই থেকে স্ত্রী-রিয়াকে নানা ভাবে নির্যাতনের মাত্রা দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে  রিয়াকে ডিভোর্স দিবে বলে হুমকি দেয়। রিয়া মিরপুরের মোল্লা  পরিবারের কাছে বিচার দেয়।

সুত্র-আরো জানায়, মোল্লা পরিবারের সদস্যদের একজনের অফিসে মনির পিয়নের কাজ করত। কিন্তু বিচার দিয়েও মনির শুধরায়নি। পরে তার কৃতকর্মের জন্য পিয়নের কাজটিও হারান মনির।পিয়নের কাজ হারিয়ে মনির ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়ার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়ে রিয়া পল্লবী থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। মামলার  ১নং আসামী মনির গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আছে। ২নং আসামী, তাসমিয়া জাহান ঝিনুক (বীথী), পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে রিয়ার ভাই শাহিন বলেন, এতো দিন বোনের সুখের কথা ও দুই ভাগ্নীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মনিরকে নগত ৩লক্ষ টাকা দিয়েছি, বিয়ের সময় ঘর ভর্তি আসবাবপত্র ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার বড় ভাই শামীমকে বিদেশ পাঠানোর জন্য মনিরের নিকট ১০লক্ষ টাকা দেই, কিন্তু মনির বড় ভাইকে বিদেশে না পাঠাইয়া টাকা আত্মসাৎ করে। বোন ও ভাগ্নির কথা ভেবে উক্ত টাকা মনিরের নিকট চাওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার (এস আই) আব্দুর রহিম বলেন, মনিরের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছে, আমিসহ সংগীয় ফোর্স নিয়ে আমামী মনির হোসেন রাজ কে আটক করি পরে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করি। ২নং আসামী তাসমিয়া জাহান ঝিনুক (বীথী) পলাতক রয়েছে তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্, গত ১৫ বছর পূর্বে, মনির হোসেন রাজ (৩৮), পিতা-মৃত আঃ হক, সাং- সেকশন-১২, ব্লক-ডি, রোড-৯/এ, বাসা-৪, থানা-পল্লবী, ঢাকা। এ/পি- বাসা-১২/১, দুয়ারীপাড়া, শতাব্দী হাউজিং, থানা-রুপনগর, ঢাকা এর সাথে আছমা আক্তার রিয়া (৩০), পিতা-মৃত ফারুক হাসান, মাতা-শায়লা আক্তার মমতাজ বিবাহ হয়।বিবাহের পর তাহারা স্বামী-স্ত্রী পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, রোড-১২, বাস-৩ (৪র্থ তলার ভাড়া বাসায়) ঘর-সংসার করিয়া আসিতেছিল। তাদের দাম্পত্য সংসারে রাজনীন (১৩) ও তোহা (৫) নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ