পেশাদারিত্বের মধ্যথেকেও মানবতা ও মহানুভবতার উদাহারণ কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ

মো: আবুল বায়েস ১২:০৯, ১৩ জুন ২০২০

ছোটবেলা থেকে লালন ফকিরের রচিত একটা গান শুনে আসছি গানটা এরকম, “নীড়ে নূরে দুইটি নীহার কোনটাকে ঠিক রাখা যায় একদিকে দিলে নজর আরেক দিক অন্ধকার হয়” অর্থাৎ কোন মানুষ যদি একটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাহলে তার আরেক দিকের কাজের একটু হলেও ব্যঘাত ঘটবেই।কিন্তু চৌকষ, বিচক্ষন এবং কর্মশৈলিতার জোরে একা একজন মানুষ সকল দিকেই নজর রাখতে পারেন তারই অনন্য নজির স্থাপন করলেন একজন নন্দিত পুলিশ কর্মকর্তা।

বলছিলাম কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপার জনাব মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) মহোদয়ের কথা।যিনি তার পেশাদারিত্ব,কর্মশৈলিতা,সততা, ন্যায়, নিষ্ঠা দিয়ে কিশোরগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের পথে প্রান্তরে, হাওরে -বাওরে মানুষের মুখে মুখে শোনা যায় যার নাম বন্দনা তিনি আর কেউ নয় তিনি পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান। দুই বসরে কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে তিনি ঈর্ষনীয় স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। নিজের সেরাটা দিয়েই জনমনে জায়গা করে নিতে পেরেছেন তিনি। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমনের অনেক আগে থেকেই তার রুটিন করা শেষ যে তিনি জনসাধারণের জন্য কি কি করবেন,তাদের পাশে কিভাবে কি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরবেন। তার টিম ওয়ার্কের ধারা দুটি সেক্টরে তিনি বিভক্ত করে ফেলেন সদুটি সেক্টর হলো, অভিভাবক হিসেবে তিনি পুলিশের সুরক্ষায় কি করবেন, আরেকটি হলো সাধারন জনগনের জন্য জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে কি করবেন। প্রথমে যেটি নিয়ে বলতে চাই সেটি হলো পুলিশ সুপার হিসেবে জনগনের জন্য কি কি করে আজ আমাদের পুলিশ সুপার কিশোরগঞ্জবাসীর মনে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেনG

০৮ মার্চ যখন লকডাউন শুরু হলো সে লকডাউনের ঊষা লগ্ন থেকেই কিশোরগঞ্জ পুলিশের অ্যাক্টভিটিস ছিলো মানুষের নজর কারার মতো। মার্চের ১০ তারিখ গঠন হলো কুইক রেসপন্স টিম।যার মাস্টার মাইন্ড ছিলেন স্বয়ং পুলিশ সুপার।এই টীমের কাজ হলো আক্রান্ত ব্যক্তি বা এলাকায় যেয়ে একেবারে সামনে থেকে কাজ করা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া, আশেপাশের বাড়িঘর অন্যান্যদের সহায়তায়,লকডাউন করা। পুলিশ সুপার নিজস্ব তহবিল থেকে খাদ্যাভাব পরিলক্ষিত এলাকায় ত্রানের ব্যবস্থা করেছেন। যারা লজ্জায় ত্রান নিতে পারতোনা তারা পুলিশ সুপারের সরকারি নাম্বারে ফোন দিলেই সংশ্লেষিত থানার ওসির মাধ্যমে খাবার চলে যেতো তাদের বাড়িতে।

গত তিনমাস ধরে রাত দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পুলিশ সুপার। এর ভেতর প্রতিদিনই দেখা গেছে কুইক রেসপন্স টীম, ত্রান নিয়ে বিভিন্ন থানা এলাকায় যেতে। বেদে,হিজড়া,নরসুন্দর এবং মুচিসম্প্রদায়ের লোকের,কাছে গিয়েও ত্রান দিতে পিছপা হননি পুলিশ সুপার।নিজহাতে ত্রান দিয়ে আসতেন তিনি।প্রতিদিনই শত শত পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন তিনি। করোনার অত্যাচারে মানুষ যখন দীশেহারা মুসলমানের ঘরে আসলো ঈদ। সে ঈদেও তিনি কাউকে বিমুখ করেননি। অসহায়,দুঃস্থ্য প্রায় তিনশ পরিবারকে দিয়েছেন ঈদ উপহার সামগ্রী। তেল,ডাল,চিনি,লবন,মাস্ক, শাড়ি,লুঙ্গী। জনগনের পর এবার আসি অভিভাবক হিসেবে পুলিশের জন্য কি কি করেছেন তিনি।

জনসাধারণের জন্য তিনি যেটা করেছেন পুলিশ সদস্যদের জন্যও তার কোন অংশে কম করেন নাই। সংক্রমণের একমাস আগে থেকেই নেয়া হয়েছে নানামুখি উদ্যেগ। পুলিশ লাইন্স এবং পুলিশ অফিসের প্রবেশদ্বারে স্থাপন করা হয় হাত ধোয়ার বেসিন এবং ট্যানেল। সরবরাহ করা হয় পর্যাপ্ত সাবান, মাস্ক,স্যানিটাইজার, পিপিই, হ্যান্ডওয়াশ।বিলিকরা হয় নানাবিধ প্রচারনা সংবলিত লিফলেট। পুলিশ লাইন্স মেসে সরবরাহ করা হয় নানান ধরনের মৌসুমি ফল। পুলিশ লাইন্স ব্যারাকের নিচে রাখা হয় গরম পানি খাবার বুথ। পুলিশের স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রাখতে নেয়া হয় নানামুখি উদ্যেগ।প্রতিদিন পুলিশ লাইন্সে একবার করে এসে হলেও ফোর্সের খবর নিয়েছেন পুলিশ সুপার। ভৈরব থানায় যখন একে একে ১১ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হলো তাদের দিকে দেয়া হলো এক্সট্রা কেয়ার। যার ফলশ্রুতিতে তারা অতি দ্রুত সুস্থ্য হয়েছেন।আক্রান্তদের সাথে প্রতিদিনই তিনি যোগাযোগ রেখেছেন।দিয়েছেন নির্দেশনা, যুগিয়েছেন মানসিক সাহস। পুলিশ সুপারের এমন মানবিক পেশাদার আচরণের জন্যই কিশোরগঞ্জের পুলিশে এখন কোন আক্রান্ত নেই। যার পুরো ক্রেডিটই পুলিশ সুপারে মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম বার স্যারের।

সূত্র: পুলিশ কনেষ্টবল আব্দুল বাতেন

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ