সর্বশেষ :

প্রেমিকার বাসায় প্রেমিকের লাশ

নিউজবক্সবিডি, ঢাকা ০১:৩৪, ২২ মে ২০১৯

স্বপ্ন বুনেছিলেন, একসঙ্গে পাড়ি দেবেন দীর্ঘপথ; সংসার সাজাবেন তাকে নিয়েই। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি) ছাত্র আশিক এ ইলাহী (২০) দীর্ঘদিন ধরেই প্রেম করে আসছিলেন তার এক সহপাঠী তরুণীর সঙ্গে। সম্প্রতি ওই সহপাঠীর বিয়ে ঠিক হয় অন্য পাত্রের সঙ্গে। এতে পাগলপ্রায় হয়ে যান আশিক। তাকে বিয়ের জন্য মেয়েটিকে চাপ দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সেই সহপাঠীর বাসাতেই মিলল প্রেমিক আশিকের লাশ। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আশিককে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

তবে ওই সহপাঠী বলেছেন, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ গতকাল সকালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। আশিক এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্সের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন। তার প্রেমিকাও একই বিষয়ে একই সেমিস্টারে পড়েন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে পুলিশ কুড়িল পূর্বপাড়ার একটি বাড়ির দ্বিতীয়তলার ফ্ল্যাট থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করে। তার গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন থাকলেও লাশটি ফ্লোরে ছিল। দুই রুমের ওই ফ্ল্যাটে মেস বানিয়ে একটিতে আশিকের ওই প্রেমিকা থাকেন। অন্যটিতে অপর একজন ছাত্রী থাকেন। আশিকের প্রেমিকা পুলিশকে জানিয়েছেন, সহপাঠী আশিক ও তিনি বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন।  আশিক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও তিনি তাকে বন্ধুর চোখেই দেখতেন। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তার সম্মতি নিয়েই বিয়ে ঠিক করা হয়। আশিক এ খবর জানার পর থেকে তার সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তাকে ক্যাম্পাসেও বিরক্ত করতে থাকেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে আশিক তাকে কয়েক দফায় ফোন দিতে থাকেন। আশিক বাসায় এসে তার সঙ্গে কথা বলতে চান। তাকে নিষেধ করলে তিনি ভোরে বাসায় এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে দিলে তার সঙ্গে গিয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। তখন তিনি আশিককে উদ্দেশ করে বলেন, তার বিয়ে হয়ে গেলেও তারা সব সময়েই বন্ধু থাকবেন। একপর্যায়ে আশিক উল্টাপাল্টা আচরণ শুরু করলে তিনি নিজেকে রক্ষার জন্য পাশের কক্ষে চলে যান। কিছুক্ষণ পরে ফিরে দেখেন, জানালার গ্রিলের সঙ্গে কোমরের বেল্টে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আশিক ঝুলছেন। ওই সময়ে তিনি চিৎকার দেন। প্রতিবেশীরা বঁটি দিয়ে বেল্ট কেটে তার নিথর দেহ নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
আশিকের বড় ভাই আল আমিন অভিযোগ করেন, তার ভাইকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে আশিকের প্রেমিকার নতুন প্রেমিক জড়িত বলে তারা সন্দেহ করছেন। তিনি বলেন, মেয়েটি আশিক ছাড়াও অপর একজন চিকিৎসক ছেলের সঙ্গে প্রেম করত। এ নিয়ে ঝামেলা হচ্ছিল। নতুন প্রেমিকের মাধ্যমে আশিককে শায়েস্তা করার কথাও বলা হয়েছিল। তা ছাড়া মেয়ের পরিবারও প্রভাবশালী। এসব কারণে তাদের সন্দেহ হচ্ছে, তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
ভাটারা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রাথমিক আলামতে মনে হয়েছে, আশিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এরপরও মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আশিকের বান্ধবী ও তার পাশের কক্ষের একজন ছাত্রীরও বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাটিরই তদন্ত চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বজনরা জানান, আশিকের গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানুদ্দিনে। তিনি কুড়িল পূর্বপাড়া এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজ ছিলেন। বড় ভাই আল আমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোট ভাই ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ