সর্বশেষ :

ফারুকী হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর হয়েছে মামলার তদন্তই শেষ হয়নি

নিউজবক্স ডেক্স ০৯:১৯, ২৮ আগস্ট ২০১৯

মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকেই চিহ্নিত করতে পারছেন না গোয়েন্দারা। যে কারণে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারছেন না তারা। এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবি সদস্য সাগর ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে একজনের নাম বলেছেন। কিন্তু, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিমসহ পুলিশের কোনও গোয়েন্দা সংস্থাই নব্য জেএমবির ওই শীর্ষ পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করতে পারছে না। এ কারণে তার নামও প্রকাম করছে না গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
এ হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পার হলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন তার ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমাদের কী করার আছে। পুলিশের যারা তদন্ত করছেন তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর হয়েছে। মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে চার্জশিট দিলে এবং আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তো আমরা কিছুটা চেষ্টা করতে পারতাম। তারপরও আশায় আছি, আজ হোক আর কাল হোক, আমরা আমাদের বাবাকে হত্যার বিচার পাবো।’
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট নব্য জেএমবি’র জঙ্গিদের হাতে হাতে খুন হন মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’র কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও হাইকোর্ট মাজার মসজিদের খতিব ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতেন তিনি। তবে, কট্টরপন্থীদের অভিযোগ ছিল, ইসলামের ‘মনগড়া ব্যাখ্যা’ দিতেন তিনি। নিজ বাসায় নিহত হওয়ার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করে ইসলামের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি থাকার কারণে প্রতিপক্ষ বা উগ্রবাদী কোনও সংগঠনের জঙ্গিরা তাকে হত্যা করে।  তবে এর মদতদাতা বা মূল হোতাকে আজও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।
মাওলানা ফারুকী নিহত হওয়ার ঘটনায় গত বছর জেএমবি’র সাগর নামের এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পুলিশের ধারণাকে আরও স্পষ্ট করে সাগর। কিন্তু, সে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে যার নাম বলেছে এখনও তাকে চিহ্নিত করতে পারেনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাই গোপনীয়তার স্বার্থে নামটি প্রকাশ না করে এখন তাকেই খুঁজছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
সেই পরিকল্পনাকারীর নাম বলতে চাননি মাওলানা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদ তালুকদার। তিনি বলেন, তদন্তের প্রথম চার বছর তো উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতিই ছিল না। গ্রেফতার হওয়া কোনও আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছিল না। গত বছরের মাঝামাঝি সাগর নামের এক জেএমবি সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেখান থেকে আমরা মূল পরিকল্পনাকারীর নাম জানতে পারি। কিন্তু তাকে এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। অন্য কোনও গোয়েন্দা সংস্থাও এখনও তার হদিস করতে পারেনি। যে কারণে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
সিআইডি’র এই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, যেনতেনভাবে অভিযোগপত্র দিলে তো মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যে কারণে সময় নিচ্ছি। কবে নাগাদ অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে সেটাও নির্ভর করবে মূল আসামিকে শনাক্তের ওপর।
হত্যাকাণ্ডের একদিন পর মাওলানা ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আট-নয় জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে মামলাটি ডিবি থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়।
এ মামলায় তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে পরিচিত শায়খ মোযাফফর বিন মুহসিনসহ আনসারুল্লাহর তিনজন, নব্য জেএমবি’র ছয়জন ও হরকাতুল জিহাদের তিন সদস্যসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরমধ্যে মোযাফফর বিন মুহসিন জামিনে ছাড়া পান। জেএমবি’র ছয়জনসহ ১২ জন এখনও কারাগারে রয়েছে।
ফারুকী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি আদালতে জানানোর পরবর্তী তারিখ হচ্ছে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। গত ২৮ জুলাই ঢাকা মহানগর আদালতের বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস এ দিন ধার্য করেন।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ