সর্বশেষ :

ভয়ংকর জীব না জাতি!?

নিপুল কুমার বিশ্বাস ০৩:৫৬, ৪ মে ২০২০

সাধক রনকান্ত চিন্তাধারি, ধরণীর জগত সংসারে চারিদিকে যখন মানবকুল বিধস্ত,আতংকিত, দিশেহারা হয়ে, প্রতিদিন তার অনুশারীরা তার সরনাপন্ন হচ্ছে। তখন প্রচার করলেন তিনি হোম কোয়ারান্টাইন এ আছেন। তারপর চারিদিকের মহামারির ভয়াবহতা যখন প্রকট নিজেকে রক্ষার জন্য গভীর অরণ্যের বৃক্ষ তলে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। লোকালয় ছেড়ে আত্নীয় স্বজন ও তার অন্ধভক্ত বৃন্ধ ফেলে গভীর অরণ্যে বেশ শান্তি অনুভব করে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে হঠাৎ কি যেন স্পর্শ করল। কিন্তু চোখ মেলে দেখার চেষ্টা ব্যর্থ মনে প্রশ্ন কে তুমি? দেখা দাও।
বেশ উচ্চ হাসি দিয়ে, আমি অদৃশ্য,আমি অনুজীব, তোর চোখে দেখা অসম্ভব, শুধু মাত্র সায়েন্স এ বিশ্বাস লোকগুলো আমাকে খুঁজে পেয়েছে। তা তোমার অনুসারীদের ছেড়ে গভীর অরণ্যে, সারাজীবন তোমার ভক্তরা তোমাকেই আদর্শ ভেবে তোমার কথায় মেনে চলেছে। আজ তাদের ফেলে একা স্বার্থপরের মতো তুমি চলে এলে!
কথায় আছে না, নিজে বেঁচে বাপের নাম।
তা তুমি এখানে কেন? আমাকে দেখা দাও।
তোমার চোখে আমাকে দেখতে পাবে না, ধরাধাম থেকে চলে যাওয়ার পথে তোকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। সারা জীবন বহু কথার ফুলঝুরি মানুষকে শুনিয়ে বোকা বানিয়েছ আর এখন বনে একা পালিয়েছ!
তাহলে তুমি কি সেই?
সেই মানে!
যার ভয়ে আজ ধরণীর রাজা-প্রজা, ধনী-গরিব, ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ, মাস্তান, আস্তিক -নাস্তিক সবাই আজ আতংকিত!
ঠিক ধরেছিস, আমি করোনা, করোনা ভাইরাস।
আরে তোমার ভয়ে আমি এখানে! আর তুমি এখানেও চলে এলে!
চিন্তা করিস না তোর ভয় নাই।
তবে তুমি কেন আমাদের দূর্যোগে কষ্ট দিয়ে মারছো?
আমি আর তেমন কষ্ট কোথায় দিলাম রে!
যা দিয়েছো এতেই সব শেষ, তবে কেন করছ এসব?
তাহলে শোন তোদের ধরাধামে, অনাচার, অনিয়ম পদে পদে অসংগতি ভরে গেছে। ধনী গরীব কে ঠিক মতো দান-খয়রাত করে না,মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস নাই, ধর্মে ধর্মে রেশারেশি, এক ধর্মের লোক আন্য ধর্মের গীবত করছে, ধ্বংস কামনা করে এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের লোকদের ধর্মান্তরিত করে অহংকার, আত্নতুষ্টির সাথে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বড়াই করছে। অনাচার বৃদ্ধি পেয়েছে সন্তান পিতা-মাতার দেখভাল করে না, ভাইয়ে ভাইয়ে মিল নাই, প্রতিবেশির সাথে প্রতিবেশির সম্পর্ক নাই, খেয়ে আছে না বেঁচে আছে দেখার অনুভূতি নাই, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস নাই, অফিসের বড়কর্তা ঘুষ খেয়ে নয়ছয় করে যাচ্ছে, ঠিকাদারির কাজের ফাঁকি দিয়ে প্রকল্পের টাকা মেরে খাচ্ছে, আমলা- মন্ত্রী মহোদ্বয়রা ৫%- ১০% জনগণের টাকা মেরে খাচ্ছে, জনপ্রতিনিধিরা দরিদ্রের হক মেরে খাচ্ছে, ধর্মীয় উৎসবের সময় দ্রব্যমূল্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে বিক্রয় করছে, চাকুরী পেতে গিয়ে স্বহায় সম্বল বিক্রয় করে ঘুষ দিতে হচ্ছে। অবৈধ যৌনচার বৃদ্ধির সাথে ধনী আরো ধনী হচ্ছে আর গরীব আরো গরীব হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।
এক দেশ আরেক দেশের সাথে কখনো শান্তি প্রতিষ্টার নামে, কখনো ধর্মের নামে, কখনো সম্পদের লোভে কখনো বা ক্ষমতার দাপটে যুদ্ধ করে চলছে। রাজা ও রাজযন্ত্র মিথ্যা কথা বলছে, দরিদ্র মানুষের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক থেকে মেরে এক রাজ্যে থেকে অন্য রাজ্যে ২য় হোম ৩য় হোম তৈরি করে ভোগ বিলাসে মত্ত থাকছে।
ভাই, এতো ধরাধামে নিত্য বিষয় নিয়মে পরিনত হয়ে গেছে, সাধারন মানুষের মধ্যে এ নিয়ে এখন আর কোন ক্ষোভ নাই, তাতে তোমার কি?
আরে আমি এসেছিলাম আমার কর্ম দিয়ে মানুষের মাঝে মানুষের ভালো গুণাবলীর মানুষ রুপে গড়ে তুলতে।
মানুষ তো কম মারছো না!কোন ধর্ম দেখছো না, ধনী গরীব রাষ্ট্র দেখছো না, রাজা প্রজা দেখছো না, মন্ত্রী, আমলা, সেবক,ধার্মিক, অধার্মিক, দরিদ্র, শিশু, অসহায় বৃদ্ধকেও দেখছো না। তাতে লাভ কি হলো?
নারে, হতাশ হয়ে দেখলাম আমাকে দিয়েই চলছে ব্যবসা। বাঁচবে কিনা জানেনা কিন্তু হুমড়ি খেয়ে মজুদ করছে কেউ এক মাসের খাবার কেউ দুই, তিন মাসের খাবার, আবার দূর্যোগে সুযোগ পেয়ে দোকানি ভাগিয়েছে দ্বিগুন -তিনগুন দাম। কেউ বলছে আমার ধর্মের লোকের, কেউ বলছে আমার রাষ্ট্রের কিছু হবেনা, মিথ্যা অহমিকায় ব্যস্ত সবাই।
রাজা মহাশয় এর পক্ষে গরীবদের দেওয়া চাল,ডাল, আলু, পেয়াজ দায়িত্ব প্রাপ্তরা বিক্রি করে দিচ্ছে বা মেরে খাচ্ছে।
প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডক্টর চেম্বর সর্বক্ষন রুগীর সিরিয়াল থাকে, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ব্যবসা করে একটির জায়গায় তৈরী করেছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। আর এই দূর্যোগে সব লগডাউন করে বসে আছে। কি অজুহাত সরকার মহাশয় তাহাদের পিপিই সরবরাহ করে নাই, কিন্তু সারা বছর কোম্পানি গুলো তাদের বাসার এসি থেকে শুরু করে টয়লেট টিস্যু পর্ষন্ত সরবরাহ করে থাকে। আর সামান্য পিপিই দেওয়ার টাকা নাই এই অমানুষদের ।
আবার দেখ ধরাধামের বিভিন্ন রাজ্যে রাজা মহারাজারা লগ ডাউন, শাট ডাউন দিলেও তোদের রাজ্যের কিছু উজবুক আমার ভয় অপেক্ষা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিয়ে করতে যাচ্ছে, স্কুল ছুটির সুযোগ নিয়ে বিনোদন স্পটে ঘুরছে আর পিকনিক করছে, চিন্তা কর কতো বড়ো অপমান আমার !
আমার রুপ এতো ভয়ংকর দেখার পরও তোদের মানসিকতার একটুও পরিবর্তন ঘটে না।চিন্তাও করে না মনে জাগ্রত হয় না! হানাহানি করব না, মানুষে মানুষে ধর্মে ধর্মে রেশারেশি করব না,চুরি করব না, ঘুষ খাব না, দুর্নীতি করব না, পিতা-মাতার অবহেলা করব না, মানুষ কে ঠকাবো না। ত্রাণের চাল চুরি করব না। কই কিছুই হলো না।
তাই মনে অনেক কষ্ট নিয়ে আমার থেকেও শক্তিযুক্ত কারো কামনা করে, চলে যায় এই বিশ্বভ্রমান্ডের নিয়ন্ত্রকের কাছে গিয়ে বলি আমার দ্বারা এই মানব জাতির সংশোধন সম্ভব নয়। তাই চলে যায় গিয়ে বলি “পৃথিবীতে তোমার সৃষ্টির সেরা জীব আজ ভয়ংকর জাতিতে পরিণত হয়েছে। ”
লেখকঃ নিপুল কুমার
biswasnipul14@gmail.com

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ