সর্বশেষ :

মহাদেবপুরে ধানক্ষেতের পোকা দমনে আলোক ফাঁদ

ইউনুস আলী ফাইম ০৯:৩৮, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নওগাঁর অন্যতম খাদ্য ভান্ডার মহাদেবপুরে চলতি মৌসুমে পোকামাকড়ের ক্ষতির হাত থেকে ফসল রক্ষায় কীটনাশকের পরিবর্তে কৃষকদের আলোক ফাঁদ ব্যবহারে উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

ধানক্ষেতে আলোক ফাঁদ ব্যবহারে ক্ষতিকর শত্রু পোকা ও উপকারী বন্ধু পোকাও নির্ণয় করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ক্ষেতে টাঙানো হয় বৈদ্যুতিক বাল্ব। বাল্বের নিচে পাত্র রাখা হয়। ওই পাত্রের মধ্যে ডিটারজেন্ট বা কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকে। আকৃষ্ট হয়ে পোকামাকড় আলোর কাছে আসে এবং পাত্রের পানির মধ্যে পড়ে মারা যায়। ওই পোকামাকড় দেখে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্ণয় ও প্রতিরোধ করা হয়। উপজেলার কৃষকেরা এরই মধ্যে আলোক ফাঁদ ব্যবহারের সুফল পেতে শুরু করেছেন।
ধানক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ স্বাভাবিক হলেও ফলনের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। ক্ষেতে বাদামী গাছ ফড়িং, মাজরা পোকা ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করে। এর মধ্যে বাদামি গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর। এ পোকা যে গাছে আক্রমণ করে, সেই গাছের শিষ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ফলন কমে যায়। অনেক সময় ফলন শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এসব পোকামাকড় দমনের জন্য কৃষকেরা বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআরআরআই) এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ধান চাষে কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষকেরা কোনো সুবিধা পান না। উৎপাদন তো বাড়েই না, বরং উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, আর এর পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক ফাঁদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। এতে খরচও কম হয় এবং পরিবেশবান্ধব।
জানা গেছে, গত এক মাসে উপজেলার পাহাড়পুর, বৃন্দারামপুর, বিনোদপুর, বেলকুড়ি, বেলটসহ বিভিন্ন ব্লকে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের ধানক্ষেতে আলোক ফাঁদ স্থাপন করেছে। এতে শতাধিক কৃষক আলোক ফাঁদ প্রদর্শনী করেন। এ সময় উপস্থিত কৃষকরা জানান, আলোক ফাঁদের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা নিধনে কোনো খরচ নেই এবং কীটনাশক ব্যবহার না করায় ক্ষেতেরও কোনো ক্ষতি হয় না। এজন্য তাদের ধান ধানক্ষেতেও তারা আলোক ফাঁদ ব্যবহার করবে বলে জানায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩০টি ব্লকে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিনই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। পোকামাকড়ের ক্ষতির হাত থেকে ফসল রক্ষায় কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে পরিবেশবান্ধব আলোক ফাঁদ স্থাপনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারে ধান উৎপাদনে খরচ কম হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে করে কৃষকরা লাভবান হবে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ