‘ম্যারিং ওয়েলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক ইশতেহার প্রকাশ করেছে কংগ্রেস

অনলাইনডেক্স ০৬:৫০, ২ এপ্রিল ২০১৯

ইস্তেহার প্রকাশ করে রাহুল বলেন, আমরা ইস্তেহার তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম তখনই আমি বলেছিলাম অসম্ভব কোনও কথা ইস্তেহারে রাখা হবে না। কারণ এমনিতেই প্রতিদিন আমাদের এত মিথ্যা কথা শুনতে হয়। মোদী সরকারকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, এখন দেশে আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে। আর তা থেকে রক্ষা পেতে শক থেরাপি প্রয়োজন ।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের এই ইশতেহার প্রকাশে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও।
এই ইস্তাহারে মানুষের চাহিদাকে সম্মান করা হয়েছে এবং মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাহুল। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনও কৃষক যদি ঋণ মেটাতে না পারেন তাহলে ফৌজদারি মামলা হবে না। মানে জেলে যেতে হবে না। ক্ষমতায় এলেই বেহাল কর্মসংস্থানের হাল ফেরাতে দেশের ২২ হাজার সরকারি শূন্যপদে চাকরি দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। পাশাপাশি নিজের নয়া প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গরিবদের অ্যাকাউন্টে বছরে ৭২ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গরিব এবং কৃষকরা পাঁচ বছরে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন বলে ইশতেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসের দাবি, এর ফলে উপকৃত হবে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি দরিদ্র মানুষ।
এই নির্বাচনে দেশের কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন এবং তাদের লক্ষ্য করেই নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার সব কিছু তৈরি করছে কংগ্রেস। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাহুলের প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় এলে দেশের কৃষকরা কৃষিঋণ শোধ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে না। তাদের নিয়ে আসা হবে দেওয়ানি মামলার আওতায়।
একই সঙ্গে ক্ষমতায় এলে পুরো জিএসটি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে বলেও দাবি করা হয়েছে কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহারে। মোদি সরকারের জিএসটিকে ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ বলেও কটাক্ষ করেছেন রাহুল। তিনি বলেন, তুলে দেওয়া হবে গব্বর সিং ট্যাক্স। জিএসটিতে বর্তমানে চালু পাঁচটি স্তরকে একটি স্তরে নিয়ে আসা হবে এবং সেই স্তরেও করের হার কম করা হবে। দেশের গড় জাতীয় উৎপাদনের ৬ শতাংশ শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।
কংগ্রেসের এই ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যেই এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। কংগ্রেসের এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব এবার কংগ্রেস কর্মীদের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মসংস্থান, কৃষি এবং নারীদের সুরক্ষা-এই তিনটি বিষয়ে গত পাঁচ বছরে পিছিয়ে আছে ভারত। তাই দেশকে আবার উন্নতির রাস্তায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে গত এক বছর ধরে তৈরি করা হয়েছে কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহার। এমনটাই জানিয়েছেন কংগ্রেসের নেতা এবং প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

১৭ তম লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ম্যারিং ওয়েলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার’ শীর্ষক ইশতেহার প্রকাশ করেছে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন কংগ্রেস। দলীয় সভাপতি রাহুল গান্ধী ইশতেহার প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, এই ইস্তেহারে মানুষের চাহিদাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য বদলের প্রতিশ্রুতি ছাড়াও ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে আগামী মার্চ মাসের মধ্যে ২২ লাখ চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া একশো দিনের কাজের সংখ্যা আরও বাড়াবার কথা বলা হয়েছে। রেল বাজেটের মতো কৃষকদের জন্য আলাদা বাজেট করার কথা বলা হয়েছে ইস্তেহারে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ