সর্বশেষ :

রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি

নিউজবক্সবিডি ডেক্স ১২:০০, ৪ মে ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে শুক্রবার দিনভর রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও বর্ষণে প্রশান্তি পেয়েছে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ মানুষ। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে বয়ে যাচ্ছিল মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে সাগরে সৃষ্টি হয় নিম্নচাপ এবং নিম্নচাপ রূপ নেয় ঘূর্ণিঝড়ে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থানকালে হাঁসফাঁস গরমে অসহনীয় হয়ে উঠে দেশের মানুষ। ঘরে-বাইরে সৃষ্টি হয় অস্বস্তিকর অবস্থা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিতে স্বস্তি পেয়েছে মানুষ। শুক্রবার রাজধানীতে দিনভর বৃষ্টিতে বিরাজ করে স্বস্তির পরিবেশ। আগামী তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টি হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। তবে বৃষ্টি হওয়ার তেমন আভাস ছিল না। হঠাৎ করেই সকাল সাড়ে ন’টার দিকে বৃষ্টি নামে। দিনের বেলায় আঁধারে ঢেকে যায়। কিছুক্ষণ পর আকাশে উঁকি দেয় সূর্য। পরক্ষণেই নামে আরেকদফা বৃষ্টি, যা রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। এজন্য প্রস্তুত ছিল না কেউ। হঠাৎ বৃষ্টিতে পথচারীদের দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। কাছের দোকান ও রেস্তরাঁর সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রীবাহী বাহনের অপেক্ষা করতে থাকেন লোকজন। সকালের বৃষ্টিহীন পরিবেশ দেখে কেউ ছাতা নিয়ে বের হয়নি। সামনে পেয়েও বৃষ্টির কারণে তাদের কেউ কেউ বাসে উঠতে পারেননি। তবে দিনভর বৃষ্টি ও মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা বাতাসের কল্যাণে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে নগরবাসী।
বৃষ্টির মাঝেও শুক্রবার দেশের তাপমাত্রা খুব বেশি হ্রাস পায়নি। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ফরিদপুরে ৩৬.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তেঁতুলিয়ায় ২১ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। আর ঢাকার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৫.৭ ও ২৮.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা অধিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে এক থেকে দু’টি নিম্নচাপ। এর মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। মে মাসে দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২ থেকে ৩ দিন বজ্রসহ মাঝারি/তীব্র কালবৈশাখী এবং দেশের অন্যত্র ৩ থেকে ৪ দিন হালকা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় হতে পারে। এ মাসেও থাকবে তাপপ্রবাহ। দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ২ থেকে তিনটি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যত্র ২ থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা আছে। মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ঢাকা বিভাগে ২৯৭ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৩১০ মিমি, সিলেটে ৫১০ মিমি, রাজশাহীতে ১৮৮ মিমি, রংপুরে ২৫০ মিমি, খুলনায় ১৬৯ মিমি ও বরিশালে ২৬০ মিলিমিটার থাকতে পারে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ