সরকারের ১০০ দিন ছিল উদ্যোগহীন, উদ্যমহীন, উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসহীন-সিপিডি

নিউজবক্সবিডি ০২:০৫, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

বর্তমান সরকারের ১০০ দিন ছিল উদ্যোগহীন, উদ্যমহীন, উৎসাহহীন ও উচ্ছ্বাসহীন। এমনভাবেই মূল্যায়ন করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সিপিডি আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সরকারের এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
দেবপ্রিয় বলেন, সরকারের বিগত ১০০ দিনকে আমরা উৎসাহহীন, উদ্যোগহীন, উচ্ছ্বাসহীন এবং একইসঙ্গে উদ্যমহীন হিসেবে দেখেছি। আমরা আশা করেছিলাম, একটি বড় ধরনের ১০০ দিনের উত্থানে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু, যা হয়েছে, তা হচ্ছে গতানুগতিক ধারাবাহিকতা। নতুনভাবে সেরকম কিছু আমরা লক্ষ্য করিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ১০০ দিনে যে ধরনের উদ্যোগ আমরা দেখেছি, সে ধরনের উদ্যোগ মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। কী মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে? আমরা লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আমরা দেখেছি সুদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে এটা আমরা মনে করি না। মনে হয় যেন কোথাও সরকারকে একটি ‘প্রোথিত গোষ্ঠী’ করায়ত্ত করে নীতি নির্ধারণ করছে।
দেবপ্রিয় আরও বলেন, উন্নয়নের যে ধারণা তার সঙ্গে নীতি প্রণয়নের ধারণার অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে জন প্রতিনিধিদের যে ধরনের ভূমিকা সেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য যে ধরনের কাঠামগত সংস্কারের দরকার ছিল, সেগুলোর কিছু হয়নি। এই ১০০ দিনে আমরা আশা করেছিলাম অসঙ্গতিগুলো দূর করা যাবে। আমরা সে ধরনের সচেতনতাও দেখিনি, সে ধরনের পদক্ষেপও দেখিনি।
দেবপ্রিয় বলেন, নতুন সরকার যখন নতুনভাবে আসে, তখন সে বিগত সময়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে নতুন ধরনের উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগটা তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। আমি মনে করি সাম্প্রতিক সময়ে যত নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনি (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রকাশিত) ইশতেহারটি সব থেকে সুচিন্তিত, সুলিখিত এবং সুগঠিত।
তিনি বলেন, শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কোনও রকম দুর্নীতি আমরা সহ্য করবো না। কিন্তু আমরা দেখছি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে, অন্যান্য সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে সেই দুর্নীতি প্রকটভাবে রয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পরিবর্তনের, দিন বদলের। আর ওই বদলকে আটকে রাখছে এমন একটি গোষ্ঠী যারা এই দুর্নীতি থেকে সুবিধা ভোগ করছে। সুবিধাভোগী সম্প্রদায় যেটা রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে আছে, সেটা রাজনৈতিক পরিবর্তনের শক্তিকে সামনে আসতে দিচ্ছে না। এটাকে যদি সমাধান করা না যায় তাহলে আওয়ামী লীগের সুচিন্তিত, সুলিখিত ও সুগঠিত ইশতেহার কাল্পনিক দলিল হিসেবেই ইতিহাসে স্থান পাবে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ