সর্বশেষ :

হত দরিদ্র বলে এদেশে কিছু থাকবে না-প্রধানমন্ত্রী

নিউজবক্সবিডি ডেক্স ০১:০৩, ২১ মার্চ ২০১৯

বুধবার (২০ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং বাস্তবায়ন কমিটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রারম্ভিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করা জাতীয় কর্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে, আমরা সারাদেশের তৃণমূণ পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই।’ আমাদের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রেখে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
সভা পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
হত দরিদ্র বলে এদেশে কিছু থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজকে আমাদের দারিদ্রের হার ২১ ভাগে আমরা নামিয়ে এনেছি। হত দরিদ্রের হার আমরা ১১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য এটা আরো কমিয়ে আনা এবং হত দরিদ্র বলে এদেশে কিছু থাকবে না।’
বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় এই দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে কাটিছে। মানুষের ওপর অত্যাচার শোষণ-বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছে। আমরা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়েছি। তিনি তার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো ওই কারাগারে কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, সে কষ্ট তিনি সহ্য করেছেন কার জন্য? এদেশের মানুষের জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য। সে জন্য তিনি তার জীবনের মূল্যবান সময় দেশের মানুষের জন্য কষ্ট স্বীকার করে গেছেন এবং সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নাই। মানুষের এই দুঃখ কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেননি।’
সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে তা যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্ট জনদের নিয়ে একটি ১০২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তায়নের জন্য ৬১ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, আজ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক।
মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বক্তব্য রাখেন।

উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ