সর্বশেষ :

হাজীগঞ্জের অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ দীপিকা আচার্য্যকে বাঁচানো গেল না

নিউজবক্সবিডি ১২:১৩, ৪ মে ২০১৯

বাঁচানো গেল না চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ দীপিকা আচার্য্য মনিকাকে (২৬)।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত মঙ্গলবার রাতে দীপিকার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার শরীরের ৯২ শতাংশ পুড়ে যায়।
এর আগে দীপিকাকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার স্বামী বিপুল আচার্য্য, ভাসুর সজল আচার্য্য ও শাশুড়ি সন্ধ্যা রানী আচার্য্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্য ওই দিন হাজীগঞ্জ থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। গ্রেফতার তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাজীগঞ্জ থানার ওসি আলমগীর হোসেন রনি।
অরবিন্দ আচার্য্যের অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে দীপিকাকে হত্যা করা হয়েছে। বিপুল মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে তাদের পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।
হাজীগঞ্জ থানার মামলার সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বকুলতলা রোডের বাসিন্দা বিপুল আচার্য্য ও তার বড় ভাই সজল আচার্য্য গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দীপিকা আচার্য্যকে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে রাতেই দীপিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
দীপিকার বাবার বাড়ি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ছোট মাধবদী গ্রামে। হাজীগঞ্জের রঞ্জিত আচার্য্যের ছেলে বিপুলের সঙ্গে আট বছর আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
অরবিন্দ আচার্য্য জানান, বার্ন ইউনিটে দীপিকাকে দেখতে গেলে তিনি ভাইকে জানান, তাকে মারধর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বিপুল ও সজল, তাদের মা সন্ধ্যা রানী এবং সজলের স্ত্রী দীপা হত্যার এ পরিকল্পনা করে বলে অরবিন্দ অভিযোগ করেন।
ওসি আলমগীর হোসেন জানান, আসামি সজলকে হাজীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিপুল ও তার মা সন্ধ্যা রানীকে ঢাকা মেডিকেল থেকে আটক করে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। অপর আসামি সজলের স্ত্রী দীপা আচার্য্যকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীপিকার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বক্তব্যে তাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান দীপিকা। সে আলোকে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

লাইভ

টপ